জুলাইয়ে ফেরার কথা ছিল কাদিরের, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে যান জুবের
জুলাইয়ে ফেরার কথা ছিল কাদিরের, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে যান জুবের
editor
প্রকাশিত জুন ২২, ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতার গিয়েছিলেন কাদির আহমদ (৩৩)। দরিদ্র ঘরের সন্তান কাদিরের আগামী মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল। সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। কিন্তু তার আর জীবন্ত ফেরা হচ্ছে না। রোববার (২১ জুন) এক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার জীবন, সেই সঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
শুধু কাদির নন, এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার একই এলাকার আরও চারজন যুবকের প্রাণ। নিহতদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হওয়ায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
Manual8 Ad Code
নিহত কাদির উপজেলার দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে। অন্য নিহতরা হলেন– ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আগতালুক গ্রামের মরা মিয়ার ছেলে জুবের আহমদ (২৮), একই গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ (২৭), আমরপুর গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৫) ও মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮)।
Manual4 Ad Code
মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার ফিরেছিলেন জুবের। বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে অনাগত সন্তান নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। জুবেরের আরও একটি সন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা মরা মিয়াও ১২ বছর আগে সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
Manual3 Ad Code
অন্যদিকে, নিহত জসিম উদ্দিনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে এখন অথই সাগরে পড়েছে তাঁর পরিবার।
স্থানীয় ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর জানান, নিহতদের প্রতিটি পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র। এই যুবকদের উপার্জনের ওপরই সংসারগুলো চলত।
Manual3 Ad Code
কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্যমতে, রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে শাহানিয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন এই পাঁচ বাংলাদেশি। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা পাঁচ বাংলাদেশি ও চালক নিহত হন। প্রাইভেটকারের চালক একজন ভারতীয় বলে জানা গেছে। সরকারি খরচে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।