নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট মহানগর পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে সিলেটে দায়েরকৃত নতুন মামলায় মোট ১২জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার শিঙ্গাউলী গ্রামের মৃত এবাদ আলী ছেলে আসাদুল হক একরাম (১৯), সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার ছড়ারপার সুগন্ধা-৬০ এলাকার নূর আহমদ খাঁনের ছেলে তারেক আহমদ তপু (২৮), মাছিমপুর দোয়েল-১৭ এলাকার মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে জুবেদ আহমদ (৩৫) ও সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার মাহমুদপুর (পাড়া বেকই) ইউনিয়নের ২নং শ্রীপুর দক্ষিণ এলাকার মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. আফসার হোসেন মুন্না (২২)।
অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান দিয়ে আরও ৭ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং সোমবার (২২ জুন) আরও একজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই নিয়ে সর্বমোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
Manual7 Ad Code
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট মহানগরীর নবাব রোড এলাকায় পিডিবি অফিসের সামনে থেকে মদিনা মার্কেটের দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৪০/৫০ জনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার।
Manual4 Ad Code
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৬৯জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২৪জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৪৫জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির।
তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আসামী ধরতে পুলিশ ব্যাপক তৎপর রয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১২জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’