নিজস্ব প্রতিবেদক :
পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলার এক আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৯ ও র্যাব-১১) সদস্যরা। শনিবার (২৭ জুন) আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
Manual4 Ad Code
গ্রেফতারকৃত আসামি মো. মাসুম মিয়া (৪০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানার জগন্নাথপুর এলাকার মৃত মাজু মিয়ার ছেলে।
Manual3 Ad Code
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ্য করে র্যাব জানায়, ভিকটিম কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ওমরপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী কানাডা প্রবাসী হওয়ায় তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ২০২০ সালে করোনাকালে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তার বাবা সৌদি আরবে অবস্থান করায় ১ নম্বর আসামি আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। এ কারণে আসামির নিয়মিত যাতায়াতের সূত্র ধরে ভিকটিমের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে ১ নম্বর আসামি ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে গোপনে নিজের মোবাইল ফোনে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে ১ ও ২ নম্বর আসামি ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ভিকটিম ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কুমিল্লার তিতাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার (২৭ জুন) আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার মামলা নং- ২৫, তাং-২১/০৬/২০২৬ খ্রি; ধারা- পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১২ এর ৮(১),৮(২),৮(৩); এর মূলে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার পর্ণোগ্রাফি মামলার এজাহারনামীয় ২নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।