বড়লেখায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার সরকারি ভূমি জবরদখলের অভিযোগ
বড়লেখায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার সরকারি ভূমি জবরদখলের অভিযোগ
editor
প্রকাশিত মার্চ ১, ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
বড়লেখা সংবাদদাতা:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রেলওয়ের অন্তত ১০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভূমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের লিজগ্রহীতার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি বরাদ্দে উক্ত রেলওয়ের ভূমি ভরাট করে সবজিবাজার স্থানান্তর করেন পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী।
Manual5 Ad Code
চব্বিশ-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে মেয়র কামরানও পালিয়ে যান। আর এই সুযোগে বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে উক্ত রেলওয়ের ভূমি জবরদখলে নামেন বড়লেখা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদ। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী আব্দুল হান্নান মাস্টারের লিজকৃত ভূমিও জবরদখল করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে একই কায়দায় আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে তিনি ও তার সহযোগীরা রেলওয়ের ভূমির আরেক লিজগ্রহীতা সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের লিজকৃত ৫১ শতক ভূমি জবরদখল করে টিনসেট ঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপণ করেন। এ বিষয়ে লিজগ্রহীতার ছেলে মঞ্জুরুল হান্নান আদালতে পিটিশন মামলা (নম্বর-০৯/২৫) করলে আদালত উক্ত ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
Manual5 Ad Code
সরেজমিন ও ভুক্তভোগী বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রাম এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী করিমা পারভিনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা রেলস্টেশনের পশ্চিম-উত্তর দিকে সরকারি খাদ্যগুদামের পশ্চিমে জে.এল. নং-৬৮, দাগ নং-৩২৫-এর ৪৬ শতক রেলওয়ের ভূমি তার বাবা আব্দুল মতিন কৃষি লিজ নিয়ে ভোগদখল করছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর উক্ত ভূমি তার ভোগদখলে ছিল। কিন্তু হঠাৎ বারইগ্রামের মৃত ফরিজ আলীর ছেলে এবাদুর রহমান এবাদ তাদের লিজকৃত ভূমি জবরদখলের পায়তারা চালালে তিনি তার বিরুদ্ধে স্বত্ব মামলা করেন।
মামলা চলমান অবস্থায় ২০২৪ সালের শুরুতে পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী উক্ত ভূমিতে পৌরসভার সবজিবাজার স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি তাতে রাজি হন। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ উক্ত নিচু ভূমিতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় কয়েক লাখ টাকার মাটি ভরাট করে সবজিবাজার চালু করেন। ওই বছরের ৮ মার্চ প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সবজিবাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
কিন্তু চব্বিশের জুলাই-আগস্ট পটপরিবর্তনে পৌর মেয়র আত্মগোপনে চলে গেলে বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ ও তার সহযোগীরা পুনরায় ভূমি জবরদখলের পায়তারা চালান। একপর্যায়ে তিনি মাটি ভরাট ও দোকানকোঠা তৈরির মালামাল মজুত করতে থাকেন।
উল্লেখ্য, এবাদুর রহমান এবাদ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ভূমি জোরপূর্বক জবরদখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় লিজগ্রহীতা করিমা পারভিন উক্ত ভূমির ওপর মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে (বড়লেখা) স্বত্ব মামলা (১৪৮/২০১৫) দায়ের করেন। আদালত উক্ত ভূমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা অদ্যাবধি বহাল রয়েছে।
Manual8 Ad Code
কিন্তু বিএনপি নেতা এবাদ দেশের পটপরিবর্তনের সুযোগে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে ২৫ জানুয়ারি উক্ত ভূমিতে টিনসেট ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে খুঁটি পোঁতা ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে লিজগ্রহীতা বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে রক্ষা করেন।
করিমা পারভিন জানান, তার বাবা মৃত আব্দুল মন্নান উক্ত ৪৬ শতাংশ ভূমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৯৯ বছরের স্থায়ী কৃষি লিজ নেন। ৫০-৬০ বছর ধরে উক্ত ভূমি তাদের দখলে রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি ভোগদখল করছেন। এবাদুর রহমান এবাদ উক্ত ভূমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালালে তিনি আদালতে স্বত্ব মামলা করেন এবং আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে তার লিজকৃত ভূমি পুনরায় জবরদখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি ঘর নির্মাণ করতে গেলে তিনি বাধা দিলে এবাদ ও তার দলবল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় আবার জবরদখলের চেষ্টা হতে পারে।
Manual5 Ad Code
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ বলেন, এই ভূমি তার মৌরসী সম্পত্তি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। স্থিতাবস্থা জারি থাকা অবস্থায় কেন তিনি দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন বাধা দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।