একটি দল সুযোগ পেলেই বিএনপিকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে: রিজভী
একটি দল সুযোগ পেলেই বিএনপিকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে: রিজভী
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
Manual5 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
একটি দল যখনই সুযোগ পেয়েছে বিএনপিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে সংবাদপত্র পাঠ করা যদি গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত হয়ে থাকে তাহলে সেটির মহানায়ক জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের প্রতি সিপাহী এবং জনগণের সমর্থন ছিল। যিনি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য। গণতন্ত্রের মহানায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান। যারা একাত্তরের পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধ ছিলেন, তার উদারতার কারণে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। এই রাজনৈতিক দলটি যখনই সুযোগ পেয়েছে বিএনপিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছে। এটা আমরা প্রতিনিয়ত দেখেছি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী রিকশা ভ্যান অটো চালক দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
Manual6 Ad Code
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, জনতার মধ্য থেকে জুলাই আন্দোলনে যে শ্রমিকরা নেমেছেন, যারা একদিন রিকশা চালাতে না পারলে তাদের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী পরিবারের ভাত হবে না। তাদের আত্মদানকে এতো ছোট করে দেখছেন কেন? সেটার জন্য তো কর্তব্য ছিল বেশি। যে রিকশাচালক, ভ্যানচালক মারা গেছেন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের তালিকা করে কবে পুনর্বাসন করা যায়, সে ব্যাপারে আপনাদের কাউকে তো আসতে দেখলাম না। ক্ষমতার ভাগাভাগি, রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নানা ধরনের অভিযোগের মধ্যে আক্রান্ত করা আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি।
Manual8 Ad Code
ছাত্রশিবিরের করা মধুর ক্যান্টিনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির বলে, ছাত্রদলের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি দেখছি। কে কখন নিষিদ্ধ হয় আমরা জানি না। এখন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ কি না আমরা জানি না। ছাত্রশিবিরকেও আমরা নিষিদ্ধ হতে দেখেছি একসময়। আমরা এটাও জানি, ছাত্রশিবিরের এখনকার অনেক নেতা ছাত্রলীগের মধ্যে অবস্থান করে অনেক পদ-পদবিও পেয়েছেন। অনেকেই ছাত্রশিবিরকে বলে গুপ্ত ছাত্রলীগ। এর উত্তর তারা কি করে দেবেন?এগুলোর তো অনেক প্রমাণ, অনেক তালিকা, অনেক নাম আমাদের কাছে আছে। আপনারা অবান্তর কথা কেন বলছেন?কিসের জন্য এ সমস্ত কথা বলে আজকে গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে এই বিভাজন তৈরি করছেন? আপনারা এই কারণে করছেন যে, নিজেরা কিছু করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা করা যায় কিনা। কিন্তু এটা হবে না।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সরকার প্রধান বললেন, ছাত্ররা দল করতেই পারে। হ্যাঁ, আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তাহলে করতে পারে। কিন্তু যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলা হচ্ছে তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, এই দেশে যেমন ইসলামি সংস্কৃতি, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস- এটাকে যেমন মুছে দেওয়া যাবে না। যেটার চেষ্টা শেখ হাসিনা বার বার করেছেন। ইসলামি সংস্কৃতি, ইসলামের প্রতি বিশ্বাস, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস- এটা তো জিয়াউর রহমান নিয়ে এসেছিলেন সংবিধানে। শেখ হাসিনা নানাভাবে চেষ্টা করেছেন এটা মুছে ফেলার। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের জাতীয় সংস্কৃতির নানা অঙ্গ আছে, নানা বৈচিত্র আছে। এটাকেও মুছে ফেলা যাবে না। কেন চট্টগ্রামে বসন্ত বরণ বন্ধ করা হয়েছে কার নির্দেশে হয়েছে? নাটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে। আমাদের পার্টি হচ্ছে প্রত্যেকটি ধর্মের সবাই তার মত প্রকাশ করবেন, প্রত্যেকটি ধর্ম সম্প্রদায় তার ধর্মের মত চর্চা করবেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ।