স্টাফ রিপোর্টার:
বর্ষা আসছে, আতঙ্কও বাড়ছে। বিশেষ করে সিলেট মহানগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোর মানুষ রীতিমতো অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেছেন। বন্যা বা অতি বৃষ্টিজনিত কারণে আবার যদি ডুবে যায় সিলেট মহানগরী! আবার যদি পড়তে হয় সেই বছর দু’য়েক আগের মহাদুর্ভোগে!
Manual3 Ad Code
জলাবদ্ধতা সিলেট মহানগরীর একটি পুরানো সমস্যা। অনেক বছর ধরে এই সমস্যায় জর্জরিত নাগরিক জীবন। সমাধানের চেষ্টা হয়েছে অনেক। খরচ হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু কাংখিত ফল মিলেনি।
Manual2 Ad Code
তাই দু’বছর আগে, ২০২২ সালে দফায় দফায় ডুবেছে সিলেট মহানগরী।
নিম্নাঞ্চলগুলোর বাসা-বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল হাজার হাজার মানুষকে। দিনের পর দিন পড়ে থাকতে হয়েছিল আশ্রয়কেন্দ্রে। সেই থেকে বর্ষার পদধ্বনী শোনা যেতে না যেতেই শুরু হয় নাগরিক আতঙ্ক। চলে ব্যাপক আলোচনা।
প্রকৃতিতে এখন মধূমাস জ্যৈষ্ঠ। বাংলাদেশে আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। তবে ঝড় বৃষ্টি মোটামুটি শুরু হয়ে যায় চৈত্রের শেষের দিকে। বর্ষাকাল শুরু হতে এখনো ২৬/২৭ দিন বাকী। কিন্তু তাতে কি? বৃষ্টিতো চলছে এবং প্রায়ই সিলেটে ভারি বর্ষণের আভাসও দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এমন পরিস্থিতিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি কেমন? জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারেইবা কি হয়েছে? তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাইবা কতটুকু?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হতাশই হতে হয়। সিলেট সিটি করর্পোরেশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর নগরবাসীর সুরক্ষায় বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে সিসিক। তা নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আর সিসিক মিলে আলোচনা হয়েছে প্রচুর, ঘোরাঘুরিও হয়েছে। তবে কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
আর তাই পাহাড়ী ঢল বা অতিবৃষ্টি হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাগ্যে জুটবে সেই ২০২২ সালের পরিণতি।
Manual3 Ad Code
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, দুই বছর আগের বন্যার পর সিটি করপোরেশনের নিম্নাঞ্চলগুলোর নাগরিকদের সুরক্ষায় বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ আমাদের ছিল। বিশেষ করে নদীর তীর সংরক্ষণ, সেচ প্রকল্প ইত্যাদি। তবে এগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়েই আছে। তাই সেরকম ঢল নামলে বা অতিবৃষ্টি হলে আসলে তেমন কিছু করার নেই।