আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলে শাহজালাল (রহ.) ৭০৬ তম ওরস
আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলে শাহজালাল (রহ.) ৭০৬ তম ওরস
editor
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৫, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সোমবার (১৯ মে) সকালে ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত শেষ করে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৬তম বাৎসরিক ওরস মোবারক।
এর আগে রবিবার (১৮ মে) মাজারে প্রধান গিলাফ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৬তম ওরস। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত-আশেকানরা ওরসে অংশ নিতে এখানে জড়ো হন।
প্রতিবছর হিজরী সনের জিলকদ মাসের ১৯/২০ তারিখে দুই দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়।
দেশ বিদেশের ভক্ত ও আউলিয়া প্রেমী মানুষজন এতে অংশ নেন নিজ নিজ উদ্যোগে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত -আশেকানরা আসেন শাহজালালের দরবারে। শুক্রবার রাত থেকেই ভক্তরা আসেন মাজারে প্রাঙ্গণে। দুই দিনব্যাপী ওরস মাহফিলে মাজারে গিলাফ ছড়ানো, জিকির আজকার, খতমে কোরআন, আখেরি মোনাজাত ও শিরণী বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে এই বছরের ওরস। তবে কোনো ধরনের অসামাজিকতা, অশ্লীলতা, বেদাত ও শিরক না করতে সবার প্রতি তদারকি কমিটি ও প্রসাশন ছিল তৎপর।
Manual3 Ad Code
জানা যায়, এবছর মদ-গাজা গানবাজনা ছাড়াই ব্যতিক্রমভাবে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ওরস হয়েছে। এবার আর মাজারের বিভিন্ন অংশে সামিয়ানা টানিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীর ‘নিজস্ব আস্তানা’ নেই। শত শত ভক্ত অনুরাগী আসছেন, জিয়ারত করছেন, দোয়া দরুদ পাঠ করছেন, ঘুরছেন দেখছেন এবং ফিরেও যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অবস্থানও নিচ্ছেন কিছু সময়ের জন্য। মাজার প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের ওরসের তুলনায় জনসমাগম কিছুটা কম, তবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন। কোনো অনৈসলামি কার্যকলাপ নেই। সন্ধ্যার পর থেকে চলছিল হামদ নাত কেরাত ইত্যাদি। মসজিদ এবং মহিলা ইবাদতখানায় বসে চলছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। পবিত্র এশার নামাজের পর থেকে শুরু হয় খতমে কোরআন। অন্তত ৩০ জন হাফেজ এই খতমে কোরআনে অংশ নিয়েছেন বলে মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
Manual6 Ad Code
রবিবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয় ৭০৬তম বার্ষিক ওরস। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে তেলাওয়াত, গজল, হামদ, নাত ইত্যাদি। ভক্ত অনুরাগীদের আনাগোনাও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এবছর ওরসের শিরনীতে জবাই করা হয় ভক্তদের দেয়া ৩৪টি গরু। ওরস উপলক্ষে হযরত শাহজালের মাজারে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা। এছাড়াও সাদা পোশাকে সক্রিয় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। মাজার কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও সদা তৎপর। এইবছর ওরসে শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।
Manual3 Ad Code
মাজারে ভক্ত-আশেকানদের কয়েকজনের সাথে আলাপকালে জানান, এবার ব্যতিক্রমী পরিবেশে ওরস থাকায় লোক-সমাগম কিছুটা কম হলেও সার্বিক পরিচ্ছন্নতায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ওলিকুলের শিরোমণি, উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য সিলেট আসেন। ১৩৪৬ খিস্টাব্দের ১৯ জিলক্বদ তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে তিনি যে টিলায় বসবাস করতেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। তার কবরকে ঘিরেই পরে গড়ে ওঠেছে এই শাহজালাল (রহ.) মাজার।