দেশে ‘চামচা পুঁজিবাদী অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: ড. দেবপ্রিয়
দেশে ‘চামচা পুঁজিবাদী অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: ড. দেবপ্রিয়
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে ‘চামচা পুঁজিবাদী অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পুঁজিবাদে কিছু ‘চামচা’ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে লুটপাটতন্ত্র ও চোরতন্ত্রে পরিণত করেছে। এই গোষ্ঠিই সংস্কারবিরোধী। তাদের প্রতিরোধ না করলে টেকসই পরিবর্তন অসম্ভব। আগামী দিনের নির্বাচনী ইশতেহারে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ‘সংস্কারবিরোধী জোট ভাঙতে না পারলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়, সময় এসেছে বাস্তব সংস্কারের।’
Manual4 Ad Code
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সিলেট নগরীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় অংশ নিয়ে ড. দেবপ্রিয় এসব কথা বলেন। সভায় তরুণ-তরুণী, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সিলেটের উন্নয়ন, বন্যা সমস্যা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের দাবি জানান।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা যে উৎসাহ নিয়ে অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন, টাস্কফোর্স গঠন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা তাঁর সহযোগী ও আমলাতন্ত্র যথাযথভাবে এগিয়ে নিতে পারেনি, এটি দুঃখজনক। নতুন সরকার আসলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সরকারকে স্পষ্ট জানাতে হবে, তারা কতটুকু সংস্কার সম্পন্ন করেছে এবং কতটুকু বাকি রয়েছে।’
Manual3 Ad Code
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে দেশে কেবল দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। স্কুল-কলেজের ভবন তৈরি হয়েছে, কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মানোন্নয়ন হয়নি। এই প্রবণতা বদলাতেই বাস্তব সংস্কার জরুরি।’
পরামর্শ সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, কমিউনিস্ট পার্টি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, সিলেটের বন্যা সমস্যা সমাধান ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সভায় বলেন, ‘অতীতের রাজনৈতিক দলগুলো অনেক আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এবার পরিবর্তনের সময়। আগামী নাগরিক ইশতেহারেই সেই পরিবর্তনের রূপরেখা আসবে।’
Manual8 Ad Code
সভা শেষে আয়োজকেরা জানান, আজকের আলোচনা ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি ‘নাগরিক মেনিফেস্টো’ তৈরি করা হবে, যা আগামী নির্বাচনের আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।