প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
নিজ পরিচয় গোপন করে ভবঘুরে নারীদের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত ভবনের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন বলে দাবি করেছে সাভারে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলার সম্রাট। আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতে অভিযুক্ত যে তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সাভারে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় বোনের নাম শারমিন। নানাবাড়ি বরিশালে হলেও তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে।

Manual8 Ad Code

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ শেখ দাবি করেছেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন জায়গায় নিয়ে যেতেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নারীরা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক করলে বা তাদের সঙ্গে অন্য কেউ অনৈতিক কাজে জড়ালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়তেন এবং হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন।

পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখেন তিনি। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে ওই যুবককে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর নিচতলায় ওই তরুণীকেও হত্যা করা হয় এবং পরে দুটি লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

সোমবার আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন সবুজ ওরফে সম্রাট। পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ শেখ দীর্ঘদিন ধরে সাভার মডেল থানার আশপাশে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং সেখানেই রাত কাটাতেন। পুলিশের কাছে তিনি বিভিন্ন সময় নিজের পরিচয় ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে দাবি করেছেন।

Manual4 Ad Code

তবে তার দেওয়া নাম ও ঠিকানা যাচাই করে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মশিউর রহমান খান সম্রাট নামে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন। অভিযুক্ত নিজের নাম ওই কাউন্সিলরের নামের সঙ্গে মিলিয়ে বললেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা পুলিশের (উত্তর) গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা এবং পিতার নাম বলেছেন। যাচাই করে কোনো তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বক্তব্য নিয়েও পুলিশের সন্দেহ রয়েছে।

Manual6 Ad Code

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী জানান, অভিযুক্তের আচরণ অস্বাভাবিক এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সাত মাসে ছয় হত্যাকাণ্ড
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হলে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে ১১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ এবং ১৯ ডিসেম্বর আরও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়।

একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি সেখানে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে লাশ সরাতে দেখা যায়। ওই ফুটেজের সূত্র ধরে সবুজ ওরফে সম্রাটকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পরিচয় সংক্রান্ত সব তথ্য যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Manual2 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code