শিনজো আবে হত্যা মামলার সেই আততায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিনজো আবে হত্যা মামলার সেই আততায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির একটি আদালত।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) নারা শহরের একটি আদালতে বিচারক শিনিচি তানাকা এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আবেকে হত্যার মাধ্যমে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেওয়া এই ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর রায়টি এল।
Manual5 Ad Code
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাপানে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় প্রসিকিউটররা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘যুদ্ধোত্তর ইতিহাসের নজিরবিহীন অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
Manual1 Ad Code
৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি আদালতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কারণ তিনি মনে করতেন শিনজো আবের সঙ্গে বিতর্কিত ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এর গভীর সম্পর্ক ছিল। প্রসিকিউটররা যুক্তি দেখান, ইয়ামাগামি চেয়েছিলেন আবের মতো প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিকে হত্যার মাধ্যমে ওই চার্চের কর্মকাণ্ডের প্রতি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং সামাজিক সমালোচনা তৈরি করতে।
জাপানের আইন অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ কয়েদি কারাগারেই মারা যান। ইয়ামাগামির আইনজীবীরা তার পরিবারের আর্থিক কষ্টের কথা উল্লেখ করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর জাপানের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে ইউনিফিকেশন চার্চের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দলীয় এক তদন্তে দেখা গেছে যে, শতাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওই চার্চের লেনদেন ছিল, যা জাপানি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে শাসন করা এলডিপির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামে।
ইয়ামাগামি আদালতকে জানান, শিনজো আবে এই চার্চ সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আবেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এই চার্চটি গণবিবাহের জন্য পরিচিত এবং জাপানি অনুসারীরাই এর আয়ের প্রধান উৎস।
Manual1 Ad Code
শিনজো আবে জাপানের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় (৩ হাজার ১৮৮ দিন) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যাঁর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে আবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সানা তাকাইচি জাপান ও এলডিপির নেতৃত্ব দিলেও দলটির ওপর জনগণের আস্থা আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।
তাকাইচি প্রায়ই ট্রাম্পের সঙ্গে তার কূটনৈতিক আলোচনায় আবের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। বুধবার সকালে রায় শোনার জন্য নারা আদালত প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যা এই মামলার প্রতি জাপানিদের তীব্র আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।