প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিশাল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ভারত-ইইউ

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিশাল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ভারত-ইইউ

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় গাড়ি এবং মদের ওপর আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং বিনিময়ে ভারতের তৈরি পোশাক, গয়না, ইলেকট্রনিক্স ও রাসায়নিক পণ্যের জন্য ইউরোপের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে।

আগামী ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা আসতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

এই চুক্তির সমান্তরালে ভারত ও ইইউ একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে পারে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর ভারতই হবে তৃতীয় দেশ যাদের সঙ্গে ইউরোপ এই ধরনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে জড়াচ্ছে। এছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে একটি ‘মবিলিটি এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২৭টি দেশের এই জোটকে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত করেছে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এর অনুমোদনের জন্য আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।

Manual5 Ad Code

বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি ভারতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করার পর ভারত এখন বিকল্প বাজারের সন্ধানে মরিয়া।

Manual4 Ad Code

দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে উরসুলা ফন ডার লিয়েন জানিয়েছিলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে গাড়ি আমদানিতে ভারতের উচ্চ শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে। এই শুল্ক কমলে ফক্সওয়াগন বা রেনল্টের মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারা ভারতের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি কিছু অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ বা ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ নিয়েও নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে ইইউ-এর নতুন কার্বন ট্যাক্স এবং ভারতের জন্য কিছু বিশেষ শুল্ক সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহার অন্যতম। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সুবিধা স্থগিত হওয়ায় ভারতের প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কাটিয়ে উঠতে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত জরুরি।

দিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়ে যাবে এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে ভারত সমান তালে পাল্লা দিতে পারবে।

Manual3 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code