ডিজিটাল ডেস্ক:
ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস গেরাইস রাজ্যে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রলয়ঙ্কারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
Manual3 Ad Code
রাজ্যের জুইজ ডি ফোরো পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন, তবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত জুইজ ডি ফোরো শহরেই অন্তত ৪৪০ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শহরের মেয়র মার্গারিদা সালোমাও জানিয়েছেন যে, ওই এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
Manual5 Ad Code
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আজ সকালে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জুইজ ডি ফোরো ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উবা শহরেও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ব্রাজিলের ফায়ার ব্রিগেড মেজর ডিমেট্রিয়াস গৌলার্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে জানান যে, সোমবার রাতে যখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন অনেক মানুষ বাড়ির ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। নদীগুলোর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পুরো এলাকা কাদা ও পলিমাটির নিচে তলিয়ে গেছে।
Manual8 Ad Code
মেয়র সালোমাও এই পরিস্থিতিকে তার প্রশাসনের ‘সবচেয়ে দুঃখজনক দিন’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, মাত্র চার ঘণ্টায় সেখানে ১৮০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটি এই অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে আর্দ্র মাস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, সরকারের মূল লক্ষ্য এখন মানুষের জীবন বাঁচানো, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করা এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করা।
বর্তমানে মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে মোতায়েন রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার সম্মিলিতভাবে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে, যদিও বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ভূমিধসের ঝুঁকি উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা