মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা :
১২ ঘণ্টার কম সময়ের ব্যবধানে চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে ঘটে যাওয়া বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পারুলের পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল এসব তথ্য জানান। ঘটনার পর নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা এবং দস্যুতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Manual8 Ad Code
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। প্রথমিক আলামতে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে পরকীয়া সম্পর্কিত এটি পরিকল্পিত হত্যার তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হালিমা আক্তার ও মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে ইটালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত হয়। এরপর মিঠু হালিমাকে ব্যবহার করে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করতে চেষ্টা করে। হালিমা রাজি না হলে মিঠু তার স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় এবং হালিমাকে পরিকল্পনায় সহায়তা করতে রাজি করানো হয়। এরই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠু গোপনে প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।
Manual8 Ad Code
এরপর মিঠু পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং স্বর্ণালংকার লুটে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করে। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্য হালিমাকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয় বলেও জানা যায়।
Manual2 Ad Code
পুত্রবধূকে বেঁধে রেখে শাশুড়িকে হত্যা, প্রবাসীর বাড়িতে লুটের অভিযোগপুত্রবধূকে বেঁধে রেখে শাশুড়িকে হত্যা, প্রবাসীর বাড়িতে লুটের অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার খবর পান। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমের মরদেহ এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। পরকীয়ার জেরে হালিমা আক্তার তার মাকে হত্যা করেছে এবং পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের পরিবারকে যেন ন্যায় বিচার দেওয়া হয় তিনি সেই দাবিই জানান।