মহান স্বাধীনতা দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও শোনা গেল দেশাত্মবোধক গান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’।
Manual1 Ad Code
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আয়োজিত অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করা হয়, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ আবেগের সঞ্চার করে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে এই গানটি বাজানো হয়েছিল। সে সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে গানটি আর রাষ্ট্রীয় বা প্রকাশ্য আয়োজনে শোনা যায়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে জাতীয় সংসদের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে গানটি সম্প্রচারের ঘটনায় ছয়জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
গানটির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
Manual5 Ad Code
কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের ভাষ্য অনুযায়ী, গানটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রিয় সংগীত ছিল। তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে গানটি পরিবেশিত হতো। এমনকি শিল্পীদের সঙ্গে তিনি নিজেও এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও গানটি গাইতেন বলে জানা যায়।
Manual5 Ad Code
পরবর্তীতে ১৯৮০ এর দশকে গানটি বিএনপির দলীয় সংগীত হিসেবেও স্বীকৃতি পায় এবং দলের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটেও তা উল্লেখ রয়েছে।
তবে ২০১৮ সালে কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ এবং সুরকার আলাউদ্দিন আলী অভিযোগ করেন, তাদের অনুমতি ছাড়াই গানটি দলীয় সংগীত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া সঙ্গীতশিল্পী নাশিদ কামাল দাবি করেন, গানটি রাজনৈতিকভাবে একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় এর গায়িকা শাহনাজ রহমতউল্লাহকে সঙ্গীতজগতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। যার ফলে তিনি একপর্যায়ে সঙ্গীত থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন।
Manual3 Ad Code
দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় আয়োজনে গানটির পুনঃপ্রচারণা নতুন করে এর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।