নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট সীমান্তের এপার-ওপারে গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী মানবপাচার নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ছে দুইদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ। এতে তৈরি হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অনেক নেতাকর্মী এই সীমান্ত দিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতে। আর সীমান্তে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক আটকের পর আলোচনায় আসে মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক।
এরপর সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে কিছুদিন ওই চক্র কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও ফের বেড়েছে তাদের তৎপরতা। ঈদের ছুটিতে সীমান্তে বাংলাদেশি ২২ নাগরিক আটকের পর আবারও আলোচনায় এসেছে মানব পাচারের এই নেটওয়ার্ক। ইতোমধ্যে র্যাব ও পুলিশ পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারও করেছে। কাজের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে নারীদের ভারতে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সীমান্তের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্ত ঘিরে বেশ কয়েকটি পাচারকারী চক্র রয়েছে। চোরাকারবারের পাশাপাশি ওই চক্রটি মানবপাচারও করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসা নারীদের টার্গেট করে ওই চক্রের সদস্যরা। দেশের চেয়ে ভারতে ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদেরকে সিলেট পাঠায়।
Manual8 Ad Code
এরপর সিলেটের পাচারকারীরা তাদেরকে সীমান্ত পেরিয়ে ওই চক্রের ভারতীয় সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। পাচারের শিকার হওয়া নারীদের একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয় ভারতের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। আর কোন কোন নারী ও পুরুষকে আটকে রেখে বাধ্য করা হয় কঠিন পরিশ্রমের কাজে। জাতীয় খবর
Manual2 Ad Code
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা, কেরালা ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। কাজের খোঁজে এসব রাজ্যে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে তারা সেখানে অবৈধভাবে থাকছেন। এসব বাংলাদেশিরা দেশে ফেরা ও ভারতে ফিরে যাওয়ার সময় আশ্রয় নেন পাচারকারী চক্রের সদস্যদের।
সীমান্তের এপার-ওপারে থাকা চক্রটির সদস্যরা দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদেরকে সীমান্ত পার করে দেয়। তবে মাঝে মধ্যে ওপারে বিএসএফ ও এপারে বিজিবির হাতে ধরাও পড়েন অনুপ্রবেশকারীরা।
গত রবিবার সিলেটের জৈন্তাপুর থানাধীন ডিবির হাওর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ১৮ জনকে আট করে পুলিশ। এসময় পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও আটক করা হয়। আটককৃত সবার বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
Manual4 Ad Code
এর আগে গত শুক্রবার গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত ফাঁড়ির আওতাধীন নকশিপুঞ্জি মন্দিরঘাট এলাকা থেকে দুই তরুণী ও মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে বিজিবি। মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য গোয়াইনঘাট উপজেলার পান্থুমাই গ্রামের মো. জয়েন উদ্দিনের ছেলে আফছর দিনাজপুর ও মাদারীপুরের ওই দুই তরুণীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হক।
এর আগে র্যাবের অভিযানে সিলেট থেকে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে চার তরুণীকে কাজের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে পাচারকারীচক্র ভারতে বিক্রি করে দিয়েছিল। সেখান থেকে এক তরুণী ফিরে এসে ওই চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।