নিউজ ডেস্ক:
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করে।
Manual5 Ad Code
স্থানীয় প্রতিনিধি ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, রোববার এক শিশুসহ ৩২ জনকে উদ্ধার করে বাণিজ্যিক জাহাজে করে পার্শ্ববর্তী ল্যাম্পাদুসা দ্বীপে নিয়ে আসা হয়েছে। শুক্রবার রাতে একটি ছোট নৌকা লিবিয়ার তাজুরা বন্দর থেকে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ।
Manual6 Ad Code
ইতালি কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি আরিগো বলেন, লিবিয়া কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এতে ইতালি ও লিবিয়ার একটি করে বাণিজ্যিক জাহাজ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইতালিয়ান জাহাজে করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পাদুসায় নিয়ে আসা হয়। দ্বীপটি হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
Manual4 Ad Code
ক্যাপ্টেন ডি আরিগো জানান, উদ্ধার হওয়া ৩২ জন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক।
Manual7 Ad Code
আইওএমের মুখপাত্র জানান, ডুবে যাওয়া নৌকায় ১২০ জনের অধিক যাত্রী ছিলেন। যদি এ সংখ্যা নিশ্চত হয়, তাহলে এ দুর্ঘটনা ভূমধ্যসাগরের অন্যতম অভিবাসী ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হবে। ইতিমধ্যে ভূমধ্যসাগরকে ইউরোপের বৃহত্তম সমাধিস্থল হিসেবে মন্তব্য করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আইওএম বলছে, ২০১৪ সালে ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু রেকর্ড শুরুর পর থেকে সংস্থাটি ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। নিহতদের অধিকাংশ ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া, ইতালি ও মাল্টার জলসীমায় মৃত্যুবরণ করেন। অন্যান্যরা তুরস্ক, গ্রিস অথবা মরক্কো ও স্পেনের জলসীমায়।
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা মেডিটেরানিয়ান সেভিং হিউম্যানস এক বিবৃতিতে বলছে, সাম্প্রতিক নৌকাডুবি কোনো ট্রাজিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটা ইউরোপিয়ান সরকারগুলোর অভিবাসী নীতির প্রতিফলন। বৈধ ও নিরাপদ পথে ইউরোপে প্রবেশের পথ খুলতে প্রত্যাখ্যান করায় এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য সংস্থাটির।
এ বছরে এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সপ্তাহে ১৯ মরদেহ ও ৫৮ জনকে উদ্ধার করে ইতালি কোস্টগার্ড।