রাজশাহীতে ব্ল্যাকমেইল করে ১৯ বছরের বড় নারীর সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করা, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন মো. মাহফুজ আহমেদ রিফাত নামের এক যুবক।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
Manual8 Ad Code
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত জানান, তিনি নগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর বড় বটতলা এলাকার মৃত সামান উল্লাহ খানের স্ত্রী বাদশাহ জাদী রেমীর মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। এই সুযোগে রেমী কৌশলে তাদের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সংগ্রহ করেন এবং রিফাতকে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। রিফাত রাজি না হওয়ায় রেমী বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মিথ্যা মামলা করেন। সামাজিক মর্যাদা ও পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে বয়সের বিশাল ব্যবধান সত্ত্বেও রিফাত রেমীকে বিয়ে করেন।
Manual8 Ad Code
রিফাতের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রেমী তাকে নির্যাতন শুরু করেন। রেমী একাধিক পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। অতিষ্ঠ হয়ে রিফাত গত ৩ ফেব্রুয়ারি রেমীকে আইনগতভাবে তালাক দেন।
তালাক দেওয়ার পর রেমী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৮ ফেব্রুয়ারি তালাকের নোটিশ পাওয়ার দিনই রেমী তার মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগে রিফাতের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় রিফাত ২২ দিন কারাভোগের পর গত ৬ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান।
রিফাতের দাবি, জানুয়ারি মাসের ঘটনা উল্লেখ করে ফেব্রুয়ারিতে মামলা করাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তালাকের প্রতিশোধ।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্তির পর থেকে রেমী ও তার কথিত প্রেমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বিয়ের ফাঁদ’ পাতা ওই নারী, তার মেয়ে, কথিত প্রেমিক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।