স্পোর্টস ডেস্ক :
পেলে, ম্যারাডোনা, কার্লোস তেভেজ কিংবা লুইস সুয়ারেজের মতো অনেক লাতিন ফুটবলার দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগোর নাম। ছোটবেলায় বাবাকে হারানো এই ফুটবলার পরিবারের দায়িত্ব নিতে রাজমিস্ত্রির সহকারী, বিক্রয়কর্মী, ডেলিভারি বয় ও গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেছেন। তবে ফুটবল ছাড়েননি কখনও। আর সেই ফুটবলই বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন তিনি সুযোগ পেয়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে।
ব্রাজিলের সীমান্তবর্তী পারানা রাজ্যে থিয়াগোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু। সেখান থেকে সুযোগ পান দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ক্রুজিরোতে। বর্তমানে তিনি খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে। আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কার্লো আনচেলত্তির দলে জায়গা পাওয়া এই ফরোয়ার্ড এখন বড় স্বপ্ন দেখছেন।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আলাদা টান ছিল থিয়াগোর। বাড়ির আঙিনা কিংবা রাস্তায় সুযোগ পেলেই ফুটবল খেলতেন তিনি। স্থানীয়ভাবে পরিচিতিও তৈরি হয়েছিল। সেই সূত্রে একটি এনজিও আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পান।
Manual3 Ad Code
১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার মায়ের ওপর। তখন পরিবারকে সহায়তা করতে ফুটবল অনুশীলনের ফাঁকে বিভিন্ন কাজ করতেন থিয়াগো।
Manual6 Ad Code
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোট বয়সেই মার্কেটে কাজ শুরু করেছিলেন। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ফলের দোকানে বিক্রয়কর্মী ছিলেন। বাড়িতে ফল পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছেন। কাজ না থাকলে গাড়ি পরিষ্কার ও ক্লিনারের কাজও করতেন।
এনজিওর ফুটবল কার্যক্রমে খেলতে গিয়ে সাবেক ফুটবলার টিকোর নজরে পড়েন থিয়াগো। পরে তাকে পারানা রাজ্যের ছোট ক্লাব ভেরেতে পাঠানো হয়। পরিবার ছেড়ে সেখানে যাওয়াটা ছিল তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ।
Manual4 Ad Code
ভেরে ক্লাবে শুরু থেকেই দারুণ খেলেন থিয়াগো। ২০১৮ সালে পারানা অনূর্ধ্ব-১৭ আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। পরে সুযোগ পান অনূর্ধ্ব-২০ দলে। সেখানে খেলার সময় ক্রুজিরোর স্কাউটদের নজরে পড়েন।
ক্রুজিরোর সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করলেও শুরুতে মানসিক চাপে পড়েন থিয়াগো। ক্লাবের প্রত্যাশা, সমালোচনা ও পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট তাকে ভুগিয়েছে। তবে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেন।
Manual3 Ad Code
এরপর বুলগেরিয়ার ক্লাব লুডুগোরেটস তাকে দলে ভেড়ায়। সেখান থেকে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজ হয়ে ২০২৪ সালে ৪১ মিলিয়ন ডলারে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগে নিজের দ্বিতীয় মৌসুমে ২২ গোল করেছেন ইগর থিয়াগো। চলতি মৌসুমে আর্লিং হালান্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। গত মার্চে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান এবং দুই ম্যাচে একটি গোলও করেছেন। এখন তার লক্ষ্য বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণ করা।