টেকনিকের অভাব, টেস্ট খেলার যোগ্যতা নেই সূর্যবংশীর!
টেকনিকের অভাব, টেস্ট খেলার যোগ্যতা নেই সূর্যবংশীর!
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্পোর্টস ডেস্ক:
Manual1 Ad Code
বয়স মাত্র ১৫। এরই মধ্যে ব্যাট হাতে এমন সব পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী, যা তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আইপিএল ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শুরুটা হয়েছে দারুণ। তবে টি-টোয়েন্টির এই সাফল্যকে টেস্ট ক্রিকেটে কতটা টেনে নিতে পারবেন বৈভব, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিহারের সমস্তিপুরে জন্ম নেওয়া বাঁ-হাতি এই ব্যাটারের আপাতত মূল মনোযোগ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাকে একাদশে দেখা যায়নি। ওপেনিংয়ে সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বৈভবকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তটি বোধগম্য বলেই মনে করা হচ্ছে, যদিও আইপিএলে তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
আলোচনাটা এখন আর শুধু ভারতের টি-টোয়েন্টি একাদশে বৈভবের জায়গা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন কি না, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
লাল বলের ক্রিকেটে বৈভবের অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত। বর্তমানে টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার কাছাকাছিও তিনি নেই। এর মধ্যেই ইংল্যান্ডের সাবেক স্পিনার মন্টি পানেসার প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে সফল হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় টেকনিক বৈভবের আছে কি না!
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের সঙ্গে ‘বিয়ন্ড২৩ ক্রিকেট পডকাস্ট’-এ আলোচনার সময় পানেসার বলেন, তিনি বৈভবের টেস্ট ক্রিকেটে রূপান্তর দেখতে পাচ্ছেন না।
Manual6 Ad Code
পানেসারের ভাষায়, ‘আমি বৈভবের টেস্ট ক্রিকেটে রূপান্তর দেখতে পাচ্ছি না। এই মুহূর্তে হ্যারি ব্রুকই একমাত্র খেলোয়াড়, যে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি- দুই সংস্করণেই সেরা ১০-এর মধ্যে আছে। কিন্তু আমি মনে করি না, বৈভবের প্রয়োজনীয় টেকনিক আছে।’
তবে পানেসারের সঙ্গে একমত নন মাইকেল ক্লার্ক। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের মতে, একজন ক্রিকেটারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রতিভা থাকলে তিন সংস্করণেই সফল হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের উদাহরণও সামনে আনেন তিনি।
ক্লার্ক বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখনো তিন সংস্করণেই খেলা সম্ভব। বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স সেটা দেখিয়েছে। তারা অসাধারণ টেস্ট ক্রিকেটার ছিল, একই সঙ্গে অবিশ্বাস্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারও ছিল। বর্তমান প্রজন্মের কোনো খেলোয়াড়, যেমন বৈভব, যদি টেস্ট ক্রিকেটে রূপান্তর করতে পারে, তাহলে সেটি দেখার মতো অসাধারণ বিষয় হবে।’
বৈভবের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তার পাওয়ার ও বল দেখার অসাধারণ ক্ষমতাকে চিহ্নিত করেছেন ক্লার্ক। তার মতে, বিভিন্ন পরিবেশে খেলার সুযোগ ও অনুশীলনের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে বৈভবের ব্যাটিংয়ের টেকনিক আরও উন্নত হতে পারে।
Manual6 Ad Code
ক্লার্ক বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো পাওয়ার। আর তার চোখ অসাধারণ। বিশ্বের যে কোনো তরুণ ক্রিকেটারের মতোই সে বল খুব ভালোভাবে দেখতে পারে। ভারতের সঙ্গে বেশি সফর করা এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে অনুশীলন করার মাধ্যমে তার টেকনিক আরও ভালো হবে।’
শুধু টেকনিক উন্নতির সম্ভাবনার কথাই বলেননি ক্লার্ক, বৈভবের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়েও বেশ আশাবাদী তিনি। তার মতে, বৈভব যদি তিন সংস্করণেই খেলার পথ বেছে নেন, তাহলে তিন ফরম্যাটেই বড় তারকা হওয়ার মতো প্রতিভা তার রয়েছে।
ক্লার্কের ভাষায়, ‘সে যথেষ্ট প্রতিভাবান। সে যদি এটা করতে চায়, তাহলে তিন সংস্করণেই সুপারস্টার হতে পারবে না—এমন কোনো কারণ আমি দেখি না।’
ইতোমধ্যে লাল বলের ক্রিকেটেও কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে বৈভবের। তিনি দুলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে খেলেছেন। এ আসরে ইস্ট জোন শিরোপাও জয়লাভ করেছে। সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন বৈভব। তবে নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে তার ইনিংস থেমে যায়।
Manual8 Ad Code
অর্থাৎ, টেস্ট ক্রিকেটে এখনো তার পথ অনেকটাই বাকি। তবে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসা বৈভবকে ঘিরে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলোচনা যে আরও দীর্ঘ হবে, সেটি স্পষ্ট। আর সেই সম্ভাবনার জায়গাতেই পানেসার ও ক্লার্কের মতের পার্থক্য তৈরি হয়েছে- একজন দেখছেন টেকনিকের ঘাটতি, অন্যজন দেখছেন সময়ের সঙ্গে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা এবং তিন সংস্করণে বড় তারকা হয়ে ওঠার প্রতিভা।