কমলগঞ্জে কালাছড়া বনবিটে রাতের আঁধারে বৃক্ষ নিধন ও পাচার
কমলগঞ্জে কালাছড়া বনবিটে রাতের আঁধারে বৃক্ষ নিধন ও পাচার
editor
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালাছড়া বনবিটে(শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীনস্থ) রাতের আঁধারে অবাধে চলছে মূল্যবান গাছ কাটা ও পাচারের মহোৎসব।
Manual8 Ad Code
একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র স্থানীয় বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের সরকারি সম্পদ উজাড় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
Manual7 Ad Code
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালাছড়া বনবিটের দুর্গম এলাকাগুলোকে টার্গেট করে প্রতিদিন শেষ রাতে সক্রিয় হয়ে উঠছে গাছ চোর চক্র। আকাশমণি, সেগুন, আগর ও গর্জনের মতো মূল্যবান গাছ কেটে মুহূর্তের মধ্যেই খণ্ড খণ্ড করে পিকআপ, ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানে করে পাচার করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম রাস্তা ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পাচার করায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের নজরে তা আসে না।
সোমবার(০১ জুন) ভোরে আকাশমনি গাছ পাচারকালে স্থানীয়রা গাছসহ ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা আটক করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের বেলা বনে গাছ কাটার শব্দ পাওয়া যায়। মাঝে মাঝেই গাছ ভর্তি গাড়ি নেমে যেতে দেখা যায়। বাধা দিতে গেলে চোর চক্রের নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।
তারা অভিযোগ করে বলেন বিট কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে বেড়েছে গাছ পাচার। তার যোগসাজশে চোরাকারবারি চক্র প্রতিনিয়ত বনের মূলবান গাছ কেটে পাচার করছে।
Manual4 Ad Code
গাছ কাটার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই কালাছড়া বনটি তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হবে। যেভাবে প্রতিনিয়ত গাছ কাটা যাচ্ছে, তাতে বন্যপ্রাণীরা তাদের বাসস্থান ও খাদ্য হারাচ্ছে। বনের ভেতরের বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলায় পুরো এলাকা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
Manual3 Ad Code
এ বিষয়ে কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,গাছ পাচারের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, বরং আমি যোগদানের পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মামলা দিয়েছি।এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে,এসব অপপ্রচার নিয়েই আামাদের চাকুরি করতে হয়।তিনি জানান, ভোরে গাছ পাচারের সময় গাছসহ একটি ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান,নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে বা গাছ পাচারের সাথে বনবিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে জড়িত পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেবে।তবে বন বিভাগ গাছ চুরি রোধে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে।রাতের আঁধারে গাছ কাটার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আজ ভোরে গাছসহ একটি ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়েছে, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।