স্পোর্টস ডেস্ক :
দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ইউরোপের আরেক পরাশক্তি ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মাতে লা রোজারা।
পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের দাপট দেখিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
Manual3 Ad Code
এর আগে ২০১০ সালে প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল স্পেন এবং সেবারই তারা অধরা বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল। দীর্ঘ দেড় দশক পর আবারও বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের টিকিট কাটল স্প্যানিশরা। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্পেনের দ্বিতীয় ফাইনাল।
এই জয়ের ফলে ২০০৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের অপরাজেয় থাকার রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল স্পেন, যেখানে নকআউট পর্বের শেষ ১০ ম্যাচের ৮টিতেই জয় পেল তারা (বাকি দুটি ম্যাচ টাইব্রেকারে অফিসিয়ালি ড্র)।
Manual4 Ad Code
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। তার নেওয়া নিখুঁত শট ফ্রান্সের জাল স্পর্শ করলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
প্রথম গোল হজম করার পর দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা সমতায় ফেরার জন্য বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও স্পেনের সংগঠিত ও জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় ফরাসি ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধে ফ্রান্স মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।
Manual2 Ad Code
১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতি থেকে ফিরেও ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে স্পেনের জয় সুনিশ্চিত করেন পেদ্রো পোরো। দানি অলমোর একটি চমৎকার পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পোরো। তার এই দর্শনীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লা রোজারা।
দুই গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে ফ্রান্স। ম্যাচের বাকি সময়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে লড়লেও স্পেনের রক্ষণভাগের কৌশলের কাছে পরাস্ত হতে হয় ফরাসিদের।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিয়ে আসরের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্পেন।