এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : যেসব অপরাধে দন্ডিত আসামীরা
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : যেসব অপরাধে দন্ডিত আসামীরা
editor
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় ছাত্রলীগের ক্যাডার সাইফুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরও তিনজন আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করেন আদালত। সেই সাথে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
Manual3 Ad Code
আদালত সূত্র জানায়, দন্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুর রহমান (২৮) সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭ ও ৯ (৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ৯ (৩) ধারায় মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা সাপেক্ষ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দ্বারা ঝুলিয়ে রাখতে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
Manual1 Ad Code
অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গির মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও সিলেটের জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬)।
এই তিনজনের রায়ে বলা হয়, তাদের প্রত্যেককে ৯ (৩) তৎসহ পঠিত ৩০ ধারার অধীনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং ৭ ধারার অধীনে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ের আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
৯২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়কে ঘোষণার সময় আদালতে নীরবতা নেমে আসে। এই রায় আদালত ধর্ষণের যুগান্তকারী রায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে সূত্র জানায়। রায়ে বলা হয়েছে, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান, যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম, অর্জুন লস্করের অর্থদন্ডের তিন লাখ টাকা জরিমানার টাকা ভিকটিম গৃহবধূর পরিবারের সদস্যের দেয়ার আদেশ হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার (২) বন্দরবাজারের জেলার আরিফুর রহমান জানান, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের বাদাঘাট কারাগারে রাখা হয়েছে।
Manual3 Ad Code
এদিকে, ঘটনার সময় জব্দকৃত আলামত ঢাকা মেট্রো ভ-০২-১৩৬২ প্রাইভেট কারটি এজহারকারী ব্যক্তিকে ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া জব্দকৃত লাল রংয়ের পুরাতন পালসার মোটরসাইকেলটির কেউ দাবিদার না থাকায় তা রাষ্ট্র বরাবর বাজেয়াপ্ত করেন আদালত। সেই সাথে অপর জব্দকৃত আলামত নকিয়া ব্রান্ডের মোবাইল দুটি আসামী সাইফুর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসাবে তার কক্ষ থেকে জব্দ হওয়া মোবাইলগুলো তার পরিবারকে ফেরত দেয়ারও আদেশ দেন বিচারক।
অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্য কোন মামলায় আটকাদেশ না থাকলে তাদেরকে এখনই অবমুক্ত করার আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় চার দণ্ডপ্রাপ্তসহ আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।