গ্যাস সংকটে থমকে গেছে শিল্পের চাকা, অর্থনীতির সব সেক্টর এখন ঝুঁকিতে
গ্যাস সংকটে থমকে গেছে শিল্পের চাকা, অর্থনীতির সব সেক্টর এখন ঝুঁকিতে
editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের শিল্প খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের স্থবিরতা। কোথাও কারখানার মেশিন পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও চলছে অর্ধেক সক্ষমতায়। গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্টিল, সিমেন্ট, কাচ, টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং, পোশাক ও নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ; প্রায় সব গ্যাসনির্ভর শিল্পই এখন সংকটে।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকট চতুর্থ সপ্তাহে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুটে। বিপরীতে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮৫ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রফতানি; তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার ও সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে।
মেঘনা গ্রুপের ৫৭ কারখানা বন্ধ
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানাই বন্ধ রয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, গত ১০ আগস্ট রাত থেকে কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ। চিনি, ভোজ্যতেল, গম, আটা, ময়দা, সুজি, সিমেন্ট, কাগজ, এলপিজি, ফিডসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে মেঘনা গ্রুপ। শুধু নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেরই ১২টি কারখানা রয়েছে।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘কারখানা চালানোর মতো ন্যূনতম গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বাজারে পণ্যের চাহিদা রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।‘ গ্রুপটিতে ৬৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন।
বন্ধ টি কে গ্রুপের ২০ কারখানা
গ্যাসের অভাবে টি কে গ্রুপের ২৮টি প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানার মধ্যে প্রায় ২০টি বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা কয়েকটি কারখানাতেও স্বাভাবিক উৎপাদন হচ্ছে না।
নাবিল গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখলেও এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুদামে থাকা পণ্য দিয়ে আপাতত বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে মজুত দ্রুত কমে যাবে। সংকট দীর্ঘ হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হবিগঞ্জে ১৭১, গাজীপুরে ৫২৫ কারখানা বন্ধ
হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৭১টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গাজীপুরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে গ্যাস সংকটে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ। অর্থাৎ প্রায় ৫২৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা বড় কারখানাগুলোরও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
নারায়ণগঞ্জে ৪৫০ ডায়িং কারখানা বিপাকে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় প্রায় ৪৫০টি ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাপড় না পাওয়ায় শতাধিক পোশাক কারখানাও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, গ্যাস না থাকায় ডায়িং কারখানা থেকে প্রয়োজনীয় কাপড় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পোশাক কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
সাভার-আশুলিয়াতেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ফলে বয়লার, ডায়িং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং বিভাগ স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এ অঞ্চলে কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।
নরসিংদীতে বড় ধাক্কা
নরসিংদী ও মাধবদীর প্রায় ৮০ শতাংশ টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম তাদের ১০টি প্রধান কারখানার সবকটিই বন্ধ করেছে।
Manual3 Ad Code
পোশাকশিল্পেও উৎপাদন অর্ধেকে
গ্যাসের পর বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিটিএমএ’র সদস্য বস্ত্রকলগুলোর বড় অংশও বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Manual3 Ad Code
ডেনিম, ডাইং, ফিনিশিং ও স্পিনিংয়ের মতো গ্যাসনির্ভর খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কারখানা মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিজেলে উৎপাদন চালানোও কঠিন
গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কারখানা চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে, যার খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
Manual2 Ad Code
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর জানিয়েছেন, দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ডিজেল ব্যবহার ৩৯০ শতাংশ বেড়েছে। স্নোটেক্স গ্রুপের জ্বালানি ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ।
উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এভাবে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাবে।
Manual7 Ad Code
অর্ডার হারানোর শঙ্কা
শিল্পোদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন রপ্তানি আদেশ নিয়ে। সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও জাহাজীকরণ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল বা অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন।
উদ্যোক্তারা বলছেন, কখন গ্যাস বা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না; এ বিষয়ে সরকার আগাম একটি নির্ভরযোগ্য সময়সূচি দিলে উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব। কিন্তু অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে কারখানাগুলোর পুরো উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, গ্যাস সংকট এখন আর শুধু পোশাকশিল্পের সমস্যা নয়, এটি পুরো শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। তৈরি পোশাকের উৎপাদনব্যবস্থা স্পিনিং, ডাইং, ফিনিশিং থেকে শুরু করে গার্মেন্টস পর্যন্ত একটি সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। এর যেকোনও একটি পর্যায়ে গ্যাসের সংকট তৈরি হলে পুরো উৎপাদনব্যবস্থাই ব্যাহত হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা। পোশাকশিল্পে একটি চালান সময়মতো দিতে না পারলে শুধু একটি অর্ডার নয়, ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সম্পর্কও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে এখন ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তাই জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, স্বল্পমেয়াদে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার কাঠামো তৈরি করতে হবে। কোন সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকবে, কখন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে—সরকারকে অন্তত একটি পূর্বানুমানযোগ্য সময়সূচি দিতে হবে। এতে উদ্যোক্তারা উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং ক্রেতাদেরও বাস্তব পরিস্থিতি জানানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ডিজেল দিয়ে উৎপাদন চালাতে গিয়ে যে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, তা অনেক কারখানার জন্য বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পের আর্থিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমান সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন, এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটকে শুধু আজকের সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রফতানি সক্ষমতা ও বিনিয়োগের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাময়িকভাবে সংকট কাটানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে একই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা হারানো খুব সহজ, কিন্তু সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করা অনেক কঠিন।’
সংকটের মূল কারণ এলএনজি সরবরাহে ধাক্কা
বর্তমান সংকটের বড় কারণ মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা। ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি সমস্যার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়।
৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও পুরো সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে সাগরের খারাপ আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হতো। এখন তা ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
শুধু জ্বালানি সংকট নয়, অর্থনীতির সংকট
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির সমস্যা। তার নিজের সয়াবিন বীজ মাড়াই কারখানাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হকও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, প্রয়োজনে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে আগে থেকেই শিল্পোদ্যোক্তাদের জানাতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অপচয় ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কমাতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। কারণ সংকট দীর্ঘ হলে গুদামের মজুত শেষ হয়ে বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে।
সামনে বড় ঝুঁকি
বর্তমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত হতে পারে। প্রথমে কমবে শিল্প উৎপাদন, এরপর বাড়বে উৎপাদন খরচ। তারপর দেখা দিতে পারে নগদ অর্থের সংকট, ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যা এবং শ্রমিক ছাঁটাই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানিমুখী শিল্প সময়মতো পণ্য দিতে না পারলে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে কমতে পারে রফতানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ। অন্যদিকে নিত্যপণ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গ্যাস সংকটকে আর সাময়িক জ্বালানি সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন দেশের উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি ও বাজারব্যবস্থার জন্য বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি।
স্বল্পমেয়াদে সীমিত গ্যাসের সঠিক বণ্টন, শিল্প ও নিত্যপণ্য উৎপাদনে অগ্রাধিকার এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলেও উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। কারণ একটি কারখানার মেশিন বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ নয়; এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় শ্রমিকের আয়, কমে যায় বাজারের সরবরাহ এবং ধীর হয়ে যায় অর্থনীতির চাকা।