সরকারি চাকরিতে পাঁচ লাখ কর্মী নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তা পূরণে এবার দৃশ্যমান গতি আনতে চাইছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শূন্য পদ পূরণে কোনো ধরনের ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ তথা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য দ্রুত কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Manual5 Ad Code
সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়োগে
Manual3 Ad Code
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ৫ লাখ সরকারি কর্মসংস্থান। সভায় জানানো হয়, স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোরেশোরে কাজ চলছে। উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শূন্য পদে নিয়োগের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে আছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলে সরকারি সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের তরুণদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বদলি-পদায়নে এআই প্রযুক্তি
প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে সভায় জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন উপদেষ্টা। এআইভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে কর্মকর্তাদের কর্মস্থল, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে আরও কার্যকরভাবে পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বদলি-পদায়নে মানবিক পক্ষপাত, তদবির ও অপ্রয়োজনীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।
অনলাইনে পেনশন, কমবে হয়রানি
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের পর পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই ভোগান্তি দূর করতে কর্মকর্তাদের পেনশন আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত সচিবের পেনশন অনলাইনে অনুমোদনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত হবে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়ানোর তাগিদ
Manual2 Ad Code
সভায় জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার বিষয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার হলে নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি বাড়বে। কোনো ফাইল বা কাজ যাতে অহেতুক দাপ্তরিক জটিলতায় আটকে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমেও সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও সেবামুখী হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার একটি মেধাভিত্তিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করছে। নাগরিকরা যেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অহেতুক ভোগান্তির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এ সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে।’