নির্দিষ্ট কিছু দ্বিপক্ষীয় ইস্যু ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচিত দিল্লি সফরটি তাৎক্ষণিকভাবে পিছিয়েছে। তবে এখনও সম্ভাবনা পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস শনিবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, আগস্টেই এই সফরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, এই লক্ষ্যে পর্দার পেছনে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাড়াহুড়া করে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ভাষায়, ‘ভারতের সঙ্গে যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি।’
Manual3 Ad Code
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩-২৪ আগস্ট, তথা রবি ও সোমবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার কথা। এমনকি নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া ও দাপ্তরিক বৈঠকের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
Manual4 Ad Code
ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের নির্ধারিত চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে, যা মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার অংশ। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়।
দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তোড়জোড় শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে এসে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই সফর তাৎক্ষণিকভাবে পিছিয়ে গেছে। তবে হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, আগস্ট মাসের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা এখনও টিকে রয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস এই কথা লিখলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দেখুন, এই বিষয়ে বলার মতো কিছু নেই আমার কাছে। যদি সে রকম কোনো অগ্রগতি হয়, আমি নিশ্চয়ই জানাব।’
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে অনাকাঙ্ক্ষিত শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই সফরটিকে বাঁকবদল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো সামনে রেখেই দুই দেশই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যায়ের প্রচেষ্টায় নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও যুক্ত আছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Manual3 Ad Code
খবরে বলা হয়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও, তার আগেই চলতি আগস্ট মাসের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। পর্দার পেছনের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, উপযুক্ত পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেকোনো মুহূর্তে এই সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা হতে পারে।
সফর হবে উপযুক্ত সময়ে
Manual5 Ad Code
এদিকে শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একটু অগ্রগতি হোক। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে। আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।’
তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে আমরা কিছু করতে পারি না।’
এ ছাড়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলও এসেছে। আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।’
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি, অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।’
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আলোচনা করার বিষয় আছে, প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয় আছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর তো এমন নয় যে হুট করে গিয়ে হয়ে গেল। এটা কোনো খেলার বিষয় নয়। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা সেটিই করছি।’
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সেখান থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে।’