প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

এলএনজি কার্গো এসেছে, তবে এখনই কাটছে না গ্যাস সংকট

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ
এলএনজি কার্গো এসেছে, তবে এখনই কাটছে না গ্যাস সংকট

Manual3 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual2 Ad Code

দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সংকট পুরোপুরি কাটছে না। এলএনজির নতুন কার্গো সময়মতো না আসায় মহেশখালীর টার্মিনালগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

সর্বশেষ আজ একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে আবারও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। রাতে পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Manual6 Ad Code

এক্সিলারেটর এনার্জির টার্মিনালে শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট হারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। রাতের দিকে সরবরাহ আরও বাড়ার কথা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিন সরবরাহ বাড়লেও দেশের গ্যাস-সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারো।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। বাকি গ্যাস আসছে দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে।

তবে গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ গড়ে টার্মিনালের সক্ষমতার অর্ধেকের মতো রয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট। বিকেলে তা বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। এর ফলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। রাতে এলএনজি সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উঠলে মোট সরবরাহ ২৩৭ কোটি ঘনফুট হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। কম দামে এলএনজি কেনার উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এসব কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগস্ট মাসে এ ধরনের চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। ফলে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

 

Manual1 Ad Code

এর প্রভাব পড়ে দেশের গ্যাস সরবরাহে। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করছে।

বর্তমানে মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।

এর মধ্যে গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি আবার এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ শুরু করে।

পরে মজুত কমে যাওয়ায় গত বুধবার বিকেল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় এক্সিলারেটের ঘাটতি সামাল দিতে সামিটের টার্মিনাল থেকে সক্ষমতার তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে এলএনজি না থাকায় একপর্যায়ে সামিট থেকেও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট আরও তেব্র হয়।

এদিকে চলতি মাসের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে দুটি এলএনজি কার্গো পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি শনিবার এসেছে। আরেকটি কার্গো ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। এই কার্গোগুলো সময়মতো এলে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি থাকায় এতে গ্যাস-সংকট পুরোপুরি দূর হবে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code