স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়ন বাড়ানোর কথা বলে পাঠানটুলা এলাকায় ‘বৃক্ষলেন’ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সবুজায়নের বদলে সেখানে করা হচ্ছে বাণিজ্যিক বিলবোর্ড।
Manual1 Ad Code
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃক্ষলেনের নামে প্রকৃতপক্ষে এই জায়গাকে ‘বিলবোর্ড লেন’ এ পরিণত করা হয়েছে। বিলবোর্ডের কারণে ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাজকের গাছগুলোও।
সিলেট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় সাত মাস আগে বাংলাদেশ বিলবোর্ড এডভার্টাইজিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সিটি করপোরেশন এক বছরের জন্য পাঠানটুলা এলাকায় সড়ক বিভাজকে লিজ প্রদান করে। গাছ লাগানো, লাইটিংসহ এই জায়গার সৌন্দর্যবর্ধনের শর্তে তিনি লিজ নেন। পাশাপাশি ২০টি মিনিপোল (রাস্তার পাশে বিজ্ঞাপন প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত মাঝারি আকারের বিলবোর্ড) করারও অনুমতি নিয়েছেন।
Manual4 Ad Code
রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন এজেন্ট ও বিজ্ঞাপনী সংস্থার জন্য ভাড়া দেওয়ার জন্য তিন ধরনের বিলবোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। সাধারণ বিলবোর্ড, মিনিপোল বিলবোর্ড ও ইউনিপোল বিলবোর্ড। এবং মাটি থেকে মিনিপোলের মূল বিজ্ঞাপন বোর্ডটির উচ্চতা সাধারণত ২০ ফুট থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু পোলের বা খুঁটির ওপর স্থাপন করতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার সড়ক বিভাজকে গিঞ্জিভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৬টি ৬ বাই ৪ ফুটের বিলবোর্ড। এই বিলবোর্ডগুলো স্টিল দিয়ে তৈরি।
সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, লিজগ্রহিতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিনিপোল অনুমতি নিয়েছেন। তাই নিয়মানুযায়ী মাটি থেকে মিনিপোলের মূল বিজ্ঞাপন বোর্ডটির উচ্চতা সাধারণত ২০ ফুট থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হওয়ার কথা থাকলেও পাঠানটুলা এলাকার সড়ক বিভাজকে তা করা হয়নি। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাঠি থেকে মাত্র ৪ ফুট উচ্চতায় ৬ বাই ৪ ফুটের ২৬টি বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন লিজগ্রহিতা। গাছ লাগানোর কথা থাকলেও নামে মাত্র কিছু পাতাবাহার ও সৌন্দর্য্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছে, যা সড়ক বিভাজকের জন্য জন্য অনুপযুক্ত গাছ। এই গাছগুলো ইতোমধ্যে বিলবোর্ডের আড়াল হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিলবোর্ডে বৃক্ষ রোপণের বার্তা দিয়ে বিজ্ঞাপনও আহবান করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সিলেট নগরীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা এবং বায়ুদূষণ ও তাপপ্রবাহ কমানোর লক্ষে গ্রিন সিটি গড়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা পাঠানটুলায় এসে খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, মূলত বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোকে সুবিধা দিতে এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশে ‘বৃক্ষলেন’ নামটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অতিরিক্ত বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করে পাঠানটুলায় প্রকৃত অর্থে পর্যাপ্ত গাছ রোপণ ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
Manual4 Ad Code
এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবেশকর্মী ও বৃক্ষবন্ধু শাহ সিকান্দার আহমদ শাকির বলেন, এতদিন শুনে আসলাম পাঠানটুলা চত্ত্বর ও সড়ক বিভাজককে বৃক্ষলেন করা হবে। কিছু গাছও লাগানো হয়েছিল। এখন দেখি সামান্য জায়গার মধ্যে ২৬টি বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। নগরীর দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিরা আমাদের একটি সবুজ ও সুন্দর সিলেট গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বিশালাকার বিলবোর্ড স্থাপন করে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ব্যাহত করছেন। গাছ লাগিয়েই সবুজ বর্ধন করার নামে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা ব্যবসায়ীদের সাথে বিলবোর্ড ব্যবসা করছেন। প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটে নিজস্ব সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করে হলেও অপ্রয়োজনীয় বিলবোর্ড শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট না করার অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে লিজগ্রহিতা বাংলাদেশ বিলবোর্ড এডভার্টাইজিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ২৬ টি সাইবোর্ড লাগানো হয়েছিল ভুলে। এখান থেকে ৬টি বোর্ড কমবে। আমাদের ২০টির পারমিশন আছে ২০টি লাগাবো। ১ বছরের চুক্তি হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে।
Manual8 Ad Code
তিনি বলেন, এখানে গাছ লাগানো হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এটার অনুমতি দিয়েছে আন্ডার সিটি বিউটিফিকেশন। এই রাস্তায় বাগান বিলাশসহ আরও কিছু গাছ লাগানো হয়েছে। এই জায়গাটাতে আমাদের টাকা দিয়ে আমরা ফেঞ্চিং করেছি। আগে কিছু গাছ লাগানো ছিল। আমরা ওই জায়গাটায় আরও কিছু গাছ লাগিয়েছি। এই গাছগুলোকে পানি দিতে হয় সময়ে সময়ে, সেটাও আমরা করে দেই। নগর সৌন্দর্যের আন্ডারে এই রাস্তায় লাইটিং করে দেবো। এরও কাজ চলতেছে। রোড ডিভাইডারের বল্কগুলো সাদা কালো রং করে দেবো। যে সাইনবোর্ডগুলো লাগিয়েছি সেগুলোর জন্য সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হারে ট্যাক্সও দেবো। এছাড়া আমরা গোল চত্ত্বরে একটি আল্লাহু ক্যালিওগ্রাফি করাবো। আমরা এই শর্তে সিটি করপোরেশন থেকে লিজ নিয়েছি। এগুলোর ব্যাপারে আর কিছু বলতে গেলে সিটি করপোরেশন ভাল বলতে পারবে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞাপন পরিদর্শক গৌতম রায় বলেন, প্রায় ছয় সাত মাস আগে বাংলাদেশ বিলবোর্ড এডভার্টাইজিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সিটি করপোরেশন এক বছরের জন্য এই জায়গা লিজ দিয়েছে। গাছ লাগানো লাইটিংসহ সৌন্দর্যবর্ধনের করবেন পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের জন্য ২০টি মিনিপোল করার অনুমতি নিয়েছেন। তবে আমরা দেখেছি তিনি নিয়মবর্হিভুতভাবে বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। যা দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু লাগছে। আমাদের সিলেটে এমন কিছু আর হয়নি। এই জন্য আমরা সাথে সাথে উনার সাথে যোগাযোগ করছি। উনি বলেছেন পূজার পর এগুলো সরিয়ে নেবেন। যদি তিনি নিয়মানুযায়ী বিজ্ঞাপনের মিনিপোল তৈরি না করেন তাহলে তার লিজ বাতিল করে দেওয়া হবে।