সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ‘সিতি’ কি টাঙ্গাইলের ‘সুইটি’?
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ‘সিতি’ কি টাঙ্গাইলের ‘সুইটি’?
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর ঠিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তার নাম সুইটি আক্তার। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। আবার কেউ কেউ বলছেন তার বাড়ি বগুড়ায়। তবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সুইটির পরিবারের দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে তাদের মেয়ের ছবির মিল নেই।
Manual7 Ad Code
পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, সুইটি বর্তমানে সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন। গত মঙ্গলবারও (১৩ অক্টোবর) পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এদিকে টাঙ্গাইলের প্রশাসনের কাছেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
সুইটির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মিয়ার মেয়ে। সংসারের হাল করতে সৌদি আরবে পারি জমান সুইটি আক্তার। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী ‘সিতি আখতার’ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া গ্রামের সুইটি আক্তার কি-না, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই নারীকে ‘সুইটি আক্তার’ হিসেবে শনাক্ত করা হলেও সরেজমিন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে ভিন্ন বক্তব্য। পরিবারের দাবি, প্রকাশিত ছবির সঙ্গে তাদের মেয়ে সুইটির ছবির মিল নেই। তবে সুইটির মা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে তার মেয়েকে অনেকে ‘সিতি’ নামে চিনতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তারা সরকারিভাবে কোনো চিঠি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারী তাদের সুইটি কি-না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
Manual4 Ad Code
সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান তিনি। সেখানে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।
সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর থেকে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সুইটির বাবা ফজল মিয়া বলেন, ‘গত মঙ্গলবারও আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তখন আমাকে বলেছিল, দুই মাস পড়ে বাড়িতে আসবে। দুই বছর আগে সেখানে কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে কারও সর্ম্পক নেই। তবে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে আমার মেয়ের কোনো মিল নেই। যে কারণে আমরা কোনো কিছু করতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে দাবি করছি, আমার মেয়েকে ফেরত চাই।’
ফজল মিয়া বলেন, ‘আমাকে বলেছিল, একজন আইনজীবী রয়েছে। তিনিই সব গাইড করবেন। আমার মেয়েই আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কেউ যোগাযোগ করেনি।’
সাড়ে তিন বছর আগে সুইটি আক্তার কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। হজে যারা যেত তিনি তাদের দেখাশোনা করতেন। তার বিয়েও হয়েছিল। পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এখন স্বামীও নেই, বাচ্চাও নেই বলে জানান বাবা ফজল মিয়া।
Manual3 Ad Code
সুইটির মা জহুরা বেগম বলেন, ‘প্রকাশিত ছবির সঙ্গে আমার মেয়ের মিল নেই। নামের মিল রয়েছে। তাই আমরা কান্নাকাটি করি। আমার সুইটিরে মেরে ফেলাইছে। আমার মেয়ে কোন অপরাধ করেছে যে, তাকে মারব? আমার মেয়ে কোনো অপরাধ করেনি।’
সুইটির বিয়ে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। সংসার না টিকায় দ্বিতীয়বার বিয়েতে বসেনি। তাই তো আমাদের জন্য মেয়ে বিদেশ গেছে। আমার স্বামী এখনো মাটি কাটার কাজ করে। বিদেশ গিয়ে ছয় মাস কাজ করেছে। তারপর মেয়েরা মেয়েরা মারামারি করাতে আমার মেয়েকে পুলিশ ধরে নেয়। এরপর থেকে সুইটি জেলখানায় রয়েছে। মাঝখানে এক বছর ফোনে কথা হয়নি। হঠাৎ করেই একদিন সুইটির সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে চাই।’
Manual5 Ad Code
সুইটির চার বছরের একটি মেয়েও আছে। সৌদি যাওয়ার পর তার বড় বোন বিউটি মেয়েটিকে লালন-পালনের জন্য তার কাছে নিয়ে যান।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর বলেন, “বিষয়টি গণমাধ্যমে জানতে পারি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীই মহেড়া গ্রামের সুইটি আক্তার কি-না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তবে সুইটির ভগ্নিপতি আব্দুল মালেক আমাকে জানিয়েছেন, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ‘সিতি আক্তার’ই তাদের পরিবারের সুইটি।”
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।