স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এস এ পরিবহনের পার্সেল ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের মূলহোতা গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে এস এ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের নাইওরপুল, সিলেট শাখা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি কাভার্ড ভ্যান যাত্রা শুরু করে। গাড়িটি ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুই পাশে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জন এবং একটি পিকআপে থাকা চারজন মিলে তাদের গাড়ির সামনে বেরিকেড দিয়ে থামানোর সংকেত দেয়।
Manual8 Ad Code
ড্রাইভার গাড়ি থামালেও দরজা না খুললে ডাকাতরা কাচ ভাঙার চেষ্টা করে। এসময় পরিস্থিতি বুঝে না উঠেই সুপারভাইজার ও ড্রাইভার দরজা খুলে দিলে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি গাড়িতে উঠে পড়ে। তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে সুপারভাইজারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে এবং তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তিনজন ডাকাত তাকে তাদের পিকআপে তুলে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
Manual4 Ad Code
অন্যদিকে দুইজন ডাকাত ড্রাইভারের পেটে চাকু ধরে গাড়িটি নিয়ে মঙ্গলচন্ডী রোডে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আনুমানিক ১৫-১৬ জন ডাকাত কাভার্ড ভ্যানের পেছনের দুটি তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। দরজার ভিতরের তালার চাবি না দেওয়ায় তারা সুপারভাইজার ও ড্রাইভারকে মারধর করে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে চাবি নিয়ে নেয়। পরে কাভার্ড ভ্যানে থাকা মালামাল পিকআপে তুলে নিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
Manual1 Ad Code
ঘটনার পর ভিকটিম সুপারভাইজার বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ১৫-১৬ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
এরপর র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেট এর একটি আভিযানিক দল গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে এসএমপি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভার্থখলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বালুরচর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে দেওয়ান হৃদয় (২৫)।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।