স্টাফ রিপোর্টার:
সেপ্টেম্বরে দেশের গণমাধ্যমে ৫০৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০২ জন নিহত, ৯৬৪ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে সিলেটে একমাসে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৭ জন। মোট দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মাসে সারাদেশে রেলপথে ৫০ টি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত, ০৩ জন আহতের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তথ্যমতে, নৌ পথে ১৩ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন, আহত ১৫ জন ও ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৬৭ টি দুর্ঘটনায় ৫৬৫ জন নিহত এবং ৯৮২ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৯১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৯ জন নিহত, ১৮৮ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৯ শতাংশ, নিহতের ৩৯.৬৪ শতাংশ ও আহতের ১৯.৫০ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১২৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২২ জন নিহত ও ২১৬ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ২২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছে।
Manual6 Ad Code
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বার্তায় এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি বলছেন, বর্তমান অন্তবর্তী সরকার ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার নিবন্ধন দেওয়ার উদ্যোগের পরিকল্পনায় গলদ থাকায় এই অটো নিবন্ধন দেওয়া হলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিগুন হবে। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
Manual6 Ad Code
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ০৯ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৩ জন চালক, ১০৬ জন পথচারী, ২৬ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৫ জন শিক্ষার্থী, ০৮ জন শিক্ষক, ৮৮ জন নারী, ৫৪ জন শিশু, ০২ জন মুক্তিযোদ্ধা, ০১ জন আইনজীবি, ০১ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ০১ জন এবং ১২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০৫ জন পুলিশ সদস্য, ০১ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ০১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ০১ জন আইনজীবি, ০১ জন চিকিৎসক, ১২৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১০২ জন পথচারী, ৬৭ জন নারী, ৪৯ জন শিশু, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ০৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৮ জন শিক্ষক ও ০৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
Manual1 Ad Code
এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৭৭২ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৯.০১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.০২ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬.৫৮ শতাংশ বাস, ১২.১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৭.৩৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৭.২৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৫৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৫.০৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৫.৩৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৯৬ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৯ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।