৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের
৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের
editor
প্রকাশিত মে ২, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে চিকিৎসাসেবায় অপ্রতুলতা রয়েছে এবং উন্নত দেশগুলোর মতো সেবা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। তাই রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। এ জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশই (৮০ হাজার) নারী হবেন।
তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের বাড়িতে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবেন এবং খাদ্যাভ্যাস ও রোগের সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা দেবেন।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট নগর ভবনে সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
Manual1 Ad Code
এছাড়া, সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওসমানী হাসপাতালকেও উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Manual3 Ad Code
বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এসব কারখানা চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।
সুধী সমাবেশে সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সিলেট সফরে এসে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে যেখানে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। এ কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ১১টি স্থানে জটিলতা ছিল, যার কারণে কাজ আটকে ছিল। এসব সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সড়কপথ নয়, রেল যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ সড়ক বড় হলে যানবাহন বাড়ে এবং যানজটও বাড়ে, পাশাপাশি ফসলি জমি নষ্ট হয়। এ কারণে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নগরের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে এবং সুনামগঞ্জের কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ কারণে খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন করা যায়।
সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনিঘাটে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে জলাবদ্ধতা সমস্যা কমে আসবে।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিক জমে পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলগুলোতে উদ্যোগ নিতে হবে।
Manual5 Ad Code
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।