প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

“বিশাল ক্ষমতার অধিকারী বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাবা উম্মে হাবিবা মজুমদার”

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
“বিশাল ক্ষমতার অধিকারী বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাবা উম্মে হাবিবা মজুমদার”

Manual6 Ad Code

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
প্রবাসী অধ্যুসিত বিয়ানীবাজার উপজেলা। হিংসা, বিদ্বেষ, ঝড়, ঝঞ্জাট, মামলা মোকদ্দমা নেই বললেই চলে। জনপ্রতিনিধিরা কে কোথায় কি করিতেছেন তেমন একটা খোঁজ খবর রাখেন না সাধারন জনগণ। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, পারিবারিক সনদ, উত্তরাধিকারী সনদ, ইত্যাদিতে ছোট খাটো সংশোধনী ও সনদ প্রত্যাশা। আর এ সংশোধনীর একক ক্ষমতাধর বা তদারকির দায়িত্ব পালন করিতেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সাধারন জনগণ তাহাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগনের সহযোগিতা চাইলে, তাঁহারা সহজ সরল উত্তর দিয়ে থাকেন, আমরা বড় বিপদে আছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের সুপারিশ শূন্যের কোঠায়। কোন সুপারিশ-ই দৃশ্যত রাখেন না। নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তর দিয়ে থাকেন সাধারন জনগণকে, বড়কর্তা ব্যক্তি ব্যতীত কাহারো অনুরোধ রাখতে তিনি বাধ্য নহে। জনগণ বড় কর্তা কে জানতে চাইলে বলেন, ঐটা আপনাকে বলা যাবে না? অনেক ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানগণ কাহারো সুপারিশ নামঞ্জুর করিলে উত্তেজিত হন। তখন হুসিয়ার করে বলেন, বাড়াবাড়ি করিলে চেয়ারম্যানগনের মধ্যে একে অপরের সাথে ফ্যাসিস্ট ট্যাগ লাগিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কন্টরোধের সুযোগ নিয়ে থাকনে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কোন সুপারিশ নিয়ে গেলে সব ক্ষেত্রে সন্দেহ করে থাকেন। বাতাস ভারী, যেসব লোকজন নির্বাহী কর্মকর্তার বিশ্বস্ত, ঐসব লোকজনকে ম্যানেজ করে বা তাহার প্রতিনিধির নিকট বড় মাপের আর্থিক লেনদেন গোপণে করে গেলে সাধারণ লোকজনের সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে ভুক্তভোগী জনগনকে শাসিয়ে বলেন বাহিরে গিয়ে কাউকে কিছু বলা যাবে না। প্রশাসনিক জটিলতায় না পড়ার জন্য এসব লেনদেনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী পাওয়া ও দুষ্কর। তবে ভুক্তভোগী জনগণকে জিজ্ঞাসা বা তদন্তের নামে তাহাদের হয়রানীর না করে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই বা তদন্ত করিলে দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচিত হতে বাধ্য। তবে সাধারণ জনগণের আর্তনাদ বা তদন্ত করে যাচাই-বাছাই করে বিচার প্রাপ্তির সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়। নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায়-ই দাম্ভিকতার সাথে বলে থাকেন যেহেতু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলিতেছি সেহেতু সাধারণ জনগণ বা বড় মাপের নেতা তাঁহার কিছুই করিতে পারিবেন না। বাস্তবতা তা-ই বলে। সাধারণ জনগনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন দুর্নীতিবাজকে তাঁহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে অনিয়মের কারণে বরখাস্ত করেছেন, “বাইনেকুলার” দিয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সর্বোচ্চ শাস্তি হয়তো অনেকের হয়েছে কর্মস্থল ত্যাগ। সুতরাং পরাজিত জনগণ কি কখনো বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে? ৫৫ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, না।
জনাবা উম্মে হাবিবা মজুমদারের নিকট আমার এক শুভাকাক্সক্ষীর, বিয়ানীবাজার পৌরসভা কর্তৃক ডেথ সার্টিফিকেট (আবেদিত) নিষ্পত্তির জন্য তাহার কার্যালয়ে যাই এবং আমার ভিজিটিং কার্ড প্রদান করি। প্রায় ৩০ মিনিট তাহার কার্যালয়ে অবস্থান করি এবং দেখতে পেলাম লোকজন ডুকতেছে এবং পরামর্শ নিয়ে চলে যাচ্ছেন। ভাবলাম, বাপরে বাপ এত ক্ষমতা নির্বাহী কর্মকর্তার। এক কথায় ৩০ মিনিট অবস্থানকালীন সময়ে আমার জানামতো আগতদের একটি কাজও হয়নি। আমাকে পরিষ্কার করে বললেন, পৌরসভার কোন ফাইল তাহার নিকট আটকানো নেই। নির্বাহি কর্মকর্তার সাথে আমার কিন্তু প্রথম পরিচয়। তাহার পারফরম্যান্সের জবাবে, আমার শুভাকাঙ্কীর দেওয়া ডিজিটাল কপি তাহাকে দিলাম। এখানে সমসাগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রায় ১৫০টির মত পেন্ডিং। আমাকে বললেন, আপনার কোনগুলো দাগ দিয়ে যান। আমি বললাম উপরোক্ত লোকজনের সত্যতা যাচাই করে নিষ্পত্তি করে দেওয়া উত্তম। অবৈধ বা বৈধ হলে যাহা সঠিক মনে করেন তাহা নিষ্পত্তি করে দেন। এখানে আমার কোন সুপারিশ নেই। এমনকি আমার দেওয়া দাগ চিহ্ন তিনটি যদি অবৈধ হয় বৈধ করতে আমার কোন সুপারিশ নেই। ১৫ দিন পর জানতে ফোন দিলাম। উত্তরে বললেন, তদন্তে পাঠিয়েছি। এরপর আরো ১৫ দিন পর ফোন দিলাম, এবং জিজ্ঞাসা করিলাম তদন্ত রিপোর্ট কি আসিয়াছে? উত্তরে বললেন, এখনও আসে নাই। আবার ১৫ দিন পর ফোনে জানতে চাইলাম রিপোর্ট কি আসিয়াছে? উত্তরে বললেন, ওদেরকে বলেন আসতে। আমি বললাম ওরা তো মারা গেছে। ওদেরতো কোন ফোন নং বা কোন গোরস্থানে দাফন করা হইয়াছে তাহা আমার জানা নাই। ওদের পিতাকে বলেন আসতে। উত্তরে বললাম, তাহাদের পিতা তো প্রবাসে থাকেন। ওদের দাদাকে বলেন আসতে। উত্তরে বললাম, ওদের দাদা জীবিত না মৃত তাহা কিন্তু আমার জানা নেই। তখন আমি দারুণ অপমানিত হয়ে বললাম, আমার জীবনে এত ক্ষমতাধর ব্যাক্তি বিয়ানীবাজার উপজেলায় নির্বাহি কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারের মতো দেখি নাই। তখন আমি তাঁহার ক্ষমতার নিকট অসহায় হয়ে বললাম, আমি ৬০ দিন থেকে কাহার সাথে আলাপ করিলাম। উত্তরে বললেন, আমার কিছুই করার নেই। উত্তরে বললাম, উম্মে হাবিবা মজুমদার আপনার মতো একটা অপদার্থের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করেছি মাত্র।

Manual1 Ad Code

সাধারন জনগণের পক্ষে

Manual4 Ad Code

লেখক, সভাপতি- সুশাসনের জন্য নাগরি (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাঃ ০১৮১৯-১৭৬২১৭

 

Manual2 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code