সিলেটে ঠাঁই মিলছে না হাসপাতালে, প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর
সিলেটে ঠাঁই মিলছে না হাসপাতালে, প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর
editor
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে বেড়েই চলছে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুরোগীর সংখ্যা। একশ’ শয্যার শামসুদ্দিন হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শত শয্যার ‘হাম ডেডিকেটেড’ হাসপাতালটিতে বুধবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ১১০ জন শিশু। আসনের চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় এক সিটে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এছাড়া গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
Manual5 Ad Code
বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
Manual4 Ad Code
গেল ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া শিশুরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাটের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে হাফিজা আক্তার (২ বছর ৩ মাস), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের বিলাল আহমদের মেয়ে রাইসা জান্নাত (১ বছর ৫ মাস) ও ছাতক উপজেলার তোফায়েল আহমদের মেয়ে আরিয়া জান্নাত (৮ মাস)।
এর মধ্যে হাফিজা ও রাইসা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আরিয়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত নতুন কোন রোগী সনাক্ত হননি। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ১৪৭ জন।
Manual1 Ad Code
সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেটে আরও ৯২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩০ জন ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
আর বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে ২৯৭ জন ভর্তি রয়েছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১১০ জন আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন, সিলেট লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ১০ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, আল হারামাইন হাসপাতালে ১ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।