নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি তুহিন আহম্মদ হৃদয় (২৪)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার উত্তর দেবপাড়া এলাকার মো. দুলু মিয়ার ছেলে তুহিন আহম্মদ হৃদয় (২৪)।
Manual3 Ad Code
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ভিকটিম ও অভিযুক্ত তুহিন আহম্মদ হৃদয় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার উত্তর দেবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। একই বাড়ির পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিকটিম কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তবে অভিভাবকদের মতামত ছাড়া বিয়েতে রাজি নন বলে ভিকটিম জানিয়ে দেন। এরপর গত ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ভিকটিম একা ঘরে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তাকে অচিরেই বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।
Manual4 Ad Code
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করে ভিকটিমকে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলে সেখানে অভিযুক্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ভিকটিম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে র্যাব-৯ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। সিপিএসসি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা পয়েন্টের তেহারি হাউজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নবীগঞ্জ থানার মামলা নং-০৩/১২৫, তারিখ ০৩ জুন ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(খ) ধারার মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
Manual8 Ad Code
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’