নিজস্ব প্রতিবেদক:
আবারও আলোচনায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত। এবার পুশ ইন হওয়া এক তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার পাশাপাশি তোলপাড় চলছে সারাদেশে। সিলেটের সীমান্তগুলোর মধ্যে দনা সীমান্ত মানবপাচার ও পুশ ইনের জন্য ব্যাপক আলোচনায়।
Manual2 Ad Code
জানা গেছে, শেরপুর জেলার এক তরুণীকে দনা সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। এরপর তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নামে স্থানীয় কয়েকজন অপহরণ করে এবং একটি বাড়িতে আটকে রেখে টানা দশদিন ধর্ষণ করে। বুধবার স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহযোগীতায় তরুণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। অবশ্য পুলিশ অন্যতম প্রধান আসামি নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিলেটের এই দনা সীমান্তটি মানবপাচারের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। যেমন ভারতীয়দের জন্য, তেমনি বাংলাদেশী পাচারকারীদের জন্যও জনপ্রিয় এই এলাকাটি। দীর্ঘদিন থেকে এমনটা চললেও প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট। সীমান্তের এই এলাকাটিতেই ধরা পড়েছিলেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমদ মানিক। তার সঙ্গে বড় অঙ্কের নগদ টাকাও ছিল। ধারনা করা হয়, পাচারকারীদের সহযোগীতায় ভারত পাড়ি দিতে তিনি এই সীমান্তটি বেছে নিয়েছিলেন।
পরে এই সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও ধারনা করা হয়, সিলেটসহ দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাই এই সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে আবার ধরাও পড়েছেন কেউ কেউ।
Manual3 Ad Code
শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নয়, দনা সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে প্রায়ই ধরা পড়ে রোহিঙ্গারা। কখনো দেশে প্রবেশের সময়, কখনোবা ভারতে যাওয়ার সময়। এই সীমান্ত দিয়েই ভারতে পাচারকালে গত ১৭ আগস্ট ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ পাচারকারী ধরা পড়েছিল।
Manual7 Ad Code
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও দনা সীমান্তের কাছারিপাড়া এলাকা থেকে আলী হোসেন নামের এক রোহিঙ্গা যুবক কে আটক করা হয়েছিল। তারও আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে এই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ১৩ নারী পুরুষকে আটক করা হয়েছিল।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাকালে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই এই সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। তবে ধরা পড়ছে নেহায়েত অল্প।
Manual8 Ad Code
এছাড়াও ভারত থেকে চিনি, পেঁয়াজ, জিরা, শাড়ি, কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই পণ্যের চালানও আসছে দনা সীমান্ত দিয়ে।