প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পিলখানা ট্র্যাজেডি, শহীদ সেনা দিবস আজ, বিডিআর নামে ফিরছে বিজিবি

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ণ
পিলখানা ট্র্যাজেডি, শহীদ সেনা দিবস আজ, বিডিআর নামে ফিরছে বিজিবি

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
নির্বাচনের ঠিক চার দিন আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। এর পাশাপাশি পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন তিনি।

নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এই পরিকল্পনা কত দূর এগিয়েছে? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব রেবেকা খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যে নাম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ফাইল প্রসেস করার কাজ এখনো শুরু হয়নি। বিজিবি থেকে অথবা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে চাহিদা এলেই ফাইল প্রসেস করার কাজ শুরু হবে। কেবল তো সরকার হলো, শিগিগরই হয় সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাবে।’

রাজধানীর পিলখানায় তত্কালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা অফিসারদের নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর আজ। শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস। অন্তর্বর্তী সরকার এই দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা করেছে। পিলখানার ভেতরে সেনা অফিসারদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি ছিল ষড়যন্ত্র? কেন এতগুলো অফিসারকে জীবন দিতে হলো? অন্তর্বর্তী সরকার এজন্য গঠন করেছিল ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’। কমিশনের রিপোর্টে তত্কালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রিপোর্টে আস্থা রাখতে পারছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একদিন আগেই গত সোমবার বলেছেন, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত করবে সরকার।

‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ সেনা সদস্যদের শোকসন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফেরত কামনা করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশন কী বলেছিল?: অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ ১১ মাস ধরে তদন্ত করে সরকারের কাছে রিপোর্ট দাখিল করে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েক জন আওয়ামী লীগ নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে আসে রিপোর্টে।

Manual1 Ad Code

পিলখানায় তত্কালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। তারা বলছে, এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তত্কালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। এ ছাড়া এই ঘটনায় ভারতেরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন। কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরও জড়িত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

কী বলেছিলেন সেনাপ্রধান?: যদিও গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছিলেন, ‘একটা জিনিস সব সময় মনে রাখতে হবে, এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটাই তদানীন্তন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্য দ্বারা সংঘটিত। ফুলস্টপ। এখানে কোনো ‘ইফ’, ‘বাট’ (যদি, কিন্তু) নাই। এখানে যদি ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ আনেন, এই যে বিচারিক কার্যক্রম এত দিন ধরে হয়েছে, ১৬ বছর ধরে, ১৭ বছর ধরে যারা জেলে আছে, যারা কনভিকটেড, সেই বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এই জিনিসটা আমাদের খুব পরিষ্কার করে মনে রাখা প্রয়োজন। এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করবেন না। যে সমস্ত সদস্য শাস্তি পেয়েছে, তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’

ঘটনার সময় সেনা প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউটিউবে এক সাক্ষাত্কারে তিনি ঐ দিনের ঘটনার অনেক কিছুই জানিয়েছেন। তার দাবি, তদন্তে সরকার তেমন সহায়তা করেনি। তবে পেছনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিপথগামী সদস্যরা কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে তান্ডব চালায়। ঐ দুই দিনে যে ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে তার মধ্যে আছেন বিডিআরের তত্কালীন মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা অফিসার এবং নারী ও শিশুসহ আরো ১৭ জন।

Manual6 Ad Code

সেদিন কী ঘটেছিল: হাইকোর্টে জমা হওয়া মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তত্কালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৯টায় সদর দপ্তরের দরবার হলে। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ বিডিআরের নানা পদের সদস্যরা। সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ঐ দিন দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

Manual5 Ad Code

দরবার শুরুর পর মহাপরিচালকের বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাঁ দিকের পেছন থেকে দুই জন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিতে মঞ্চে প্রবেশ করেন, এক জন ছিলেন সশস্ত্র। শুরু হয় বিদ্রোহ। দরবার হলের বাইরে থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁধা বিদ্রোহী জওয়ানরা দরবার হল ঘিরে গুলি শুরু করেন। সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহীরা কর্মকর্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনেন। ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখা মাত্র মুখে কাপড় ও মাথায় হলুদ রঙের হেলমেট পরা চার জন ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেন। ডিজির পর হত্যা করা হয় আরো কয়েক জন কর্মকর্তাকে। এরপর পিলখানার ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। সন্ধ্যায় পিলখানার বিদ্যুত্-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ মাটিতে পুঁতে ও সরিয়ে ফেলা হয়। পরদিন অর্থাত্ ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ শুরু করে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code