কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী বহিষ্কার
কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী বহিষ্কার
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে (৬৫) দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সই করা দলীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। আপনার রাজনৈতিক কার্যকলাপ দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। আপনার কার্যকলাপ দলীয় ভাব-মূর্তি মারাত্মক ভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল প্রকার দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
Manual6 Ad Code
বহিষ্কৃত আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মহিষাশুড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)।
Manual5 Ad Code
এদিকে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা থেকে ও হযরত আলী নামের আরও এক আসামিকে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন।
এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
Manual1 Ad Code
কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জেরেই গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণের পর শর্ষেখেতে নিয়ে হত্যা করা হয়।