স্বামী–সন্তানের খোঁজে বাংলাদেশে এসে কারাগারে, ৮ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতীয় নারী
স্বামী–সন্তানের খোঁজে বাংলাদেশে এসে কারাগারে, ৮ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতীয় নারী
editor
প্রকাশিত মার্চ ৯, ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রথম স্বামী ও সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের এক নারী। তবে সেই খোঁজ তাকে শেষ পর্যন্ত প্রতারণা ও কারাবাসের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। প্রায় আট মাস কারাভোগের পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন তিনি।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর আইসিপি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফাল্গুনী রায় (২৯) নামের ওই নারীকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
Manual6 Ad Code
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০–১১ বছর আগে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সরকার পরিচয় গোপন করে ভারতে যান এবং সেখানে ফাল্গুনী রায়কে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর একসঙ্গে থাকার পর গৌরাঙ্গ হঠাৎ ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও স্বামী ও সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে ফাল্গুনী পরে প্রতিবেশী প্রসেনজিতের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। তবুও প্রথম স্বামী ও সন্তানকে একবার দেখার ইচ্ছা তার মনে রয়ে যায়। সেই ইচ্ছা থেকেই ২০২৫ সালের জুন মাসে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশে এসে পিরোজপুরে স্বামীর বাড়িতে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার লোকজন তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
Manual3 Ad Code
পরে বিপদে পড়ে ফাল্গুনী দালালের সহায়তায় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে গত বছরের ৩০ জুন সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিজিবির সদস্যরা তাকে আটক করেন।
Manual3 Ad Code
পরে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হলে দুটি পৃথক মামলায় তার সাজা হয়। সেই সাজা ভোগ করতে গিয়ে প্রায় আট মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে।
Manual8 Ad Code
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই তুহিন জানান, ফাল্গুনী রায় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগা থানার টেংরা কলোনি এলাকার মৃত বিশ্বনাথ রায়ের মেয়ে। সাজা শেষ হওয়ায় বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।