আগাম জামিনের পর স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে খুন, পলাতক রাজকুমার
আগাম জামিনের পর স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে খুন, পলাতক রাজকুমার
editor
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নিজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক কিশোরী। সেই অভিযোগের জেরেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। শুধু তিনি নন, তার পরিবারের সদস্যরাও এই ঘটনার নির্মম শিকার হয়েছেন। মামলায় আগাম জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
Manual3 Ad Code
শনিবার (১১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডি এলাকায় রাজকুমার নামে এক ব্যক্তি এ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি প্রথমে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেন। এরপর যৌন হয়রানির অভিযোগকারী ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও হত্যা করেন।
Manual7 Ad Code
রাজকুমার শুক্রবার রাতে শাবাদে নিজ বাড়িতে প্রথমে তার ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন। এরপর তিনি ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বাড়িতে যান। সেখানে তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ দায়ের করা কিশোরীকে গাড়িতে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন।
কেবল কিশোরীকে নয়, রাজকুমার তার ৪৫ বছর বয়সী মা এবং ৬৫ বছর বয়সী নানিকেও হত্যা করেন। ঘটনার সময় তার ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বোনও বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।
Manual1 Ad Code
এনডিটিভি জানিয়েছে, এসব ঘটনার পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করেন। এরপর তিনি তাকে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের কথা জানান।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তরুণ জোশী বলেন, রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে বলেন, ‘আমি এটা করেছি। আমি এই লোকগুলোকে খুন করেছি।’ এরপর তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন।
তিনি জানান, ফোনে রাজকুমার আত্মহত্যা করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখনও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
Manual3 Ad Code
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছি। তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
২০১৮ সালে রাজকুমার ও পার্বতীর প্রেমের পর বিয়ে হয়। শাবাদ ও দেবালাগুড়ায় নিজেদের কেনা বাড়িতে বসবাসের আগে তারা গ্রামের বাইরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের তিনটি সন্তান ছিল। এর মধ্যে প্রথম সন্তান শৈশবেই মারা যায়।
এরপর গত মে মাসে এক কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর রাজকুমার গ্রেপ্তার হন।
জোশী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীকে তার কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করতেন এবং তার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিতেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর রাজকুমার পলাতক ছিলেন। পরে তিনি আদালত থেকে আগাম জামিন পান।
তিনি বলেন, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে ২০ হাজার রুপির মুচলেকায় আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল। তার আগে থেকেই তার আচরণগত সমস্যা ছিল।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য দুই-তিনবার ফোন করেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। তার জুয়া খেলার অভ্যাসও ছিল এবং তিনি আগে থেকেই ঋণগ্রস্ত ছিলেন।’