যেভাবে দেশ সেরা হল মফস্বলের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
যেভাবে দেশ সেরা হল মফস্বলের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
editor
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
দেশের শ্রেষ্ঠ খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ছবি সরওয়ার হোসেন/
Manual6 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
শহরে নয় এবার মফস্বলে দেশের সেরা বিদ্যালয়ের গৌরব অর্জন করেছে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি ১ম বারের মত এ বিদ্যালয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে তারা দেশ সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়কে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
Manual1 Ad Code
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৫ সালে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক হাফসা বেগম ২০২৪ সালের এপ্রিলে এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর পাল্টে যায় শিক্ষা থেকে শুরু করে সহশিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১৪ জন। প্রাক-প্রাথমিকে লেখাপড়া করছে ৫০ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে গড় উপস্থিতির হার ৮৫ ভাগ। দেশের সেরা এই প্রাথমিক বিদ্যালয়েও আছে শিক্ষক সংকট।
খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফসা বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করেছি। শিশুদের মাঝে বেঁচে থাকার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ এতটুকু সাফল্য পেয়েছি।’
জানা যায়, শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় বাছাই করার জন্য সমাপনী পরীক্ষায় গড় পাসের হার (তিন বছরের), উপস্থিতির গড় হার (পাঁচ বছর), ঝরে পড়ার হার ইত্যাদিসহ ১৮টি মান নির্ণায়ক আছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটি কাজ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়ানোর জন্য বিদ্যালয়ের পরিবেশ আকর্ষণীয় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের দেয়ালজুড়ে জাতীয় প্রতীক ও বর্ণমালার ছবি আঁকা। প্রতি সপ্তাহে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস পরীক্ষার ব্যবস্থা। প্রতিবছর অভিভাবকদের ডেকে জানানো হয় ফলাফল। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও প্রাণবন্ত পাঠদান করানোর জন্য শিক্ষকেরা নানা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেন। শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে পুরষ্কার দেয়া হয়। দুর্বল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আলাদা করে ক্লাস করানো হয়। রিডিং পড়া আয়ত্বে আনার জন্য পৃথক শিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দু’জন খন্ডকালীন শিক্ষকের একজনকে বেতন দেন কর্মরত সরকারি শিক্ষকরা।
Manual6 Ad Code
খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির সভাপতি সরওয়ার হোসেন বলেন, ঝরে পড়া রোধে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মুঠোফোন নাম্বার রাখা হয়। কোনো শিক্ষার্থী টানা কয়েক দিন ক্লাসে না এলে তার বাড়ি যান শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে শিক্ষকদের সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা আছে। অভিভাবকরা জানান, প্রতি মাসে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার নিয়মকানুন হাতে-কলমে শেখানো হয়। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের পাশাপাশি নামসংবলিত ব্যাচ, টাই ও কেডস পরে শিক্ষার্থীরা। গত বছর বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষার্থী শাপলা অ্যাওয়ার্ড পায়। বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নের চূড়ান্ত ফলাফলে তারা এ কৃতিত্ব অর্জন করে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আবুল হাসান বলেন, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।
খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্য বিদ্যালয়গুলোর অনুপ্রেরণা বলে জানান বিয়ানীবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেশ চন্দ্র নাথ। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ওই বিদ্যালয়ের অনুকরণে চলার তাগিদ দিই।’
Manual8 Ad Code
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আমার বাছাই সঠিক ছিল। আমার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে আমি আনন্দিত।