ভোরে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন যুবদল নেতা বদরুল?
ভোরে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন যুবদল নেতা বদরুল?
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
Oplus_131072
Manual6 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
Manual1 Ad Code
বদরুলের সাথে থাকা ৩০ লাখ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেনের।এমন অভিযোগের পর প্রশ্ন ওঠেছে এতো ভোরে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন বদরুল আলম ও সাদেক হোসেন?
Manual8 Ad Code
নিহত বদরুল আলম উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন। দুই ছেলের জনক বদরুল ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বালুর ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় হিত বদরুলের সঙ্গে ছিলেন সাদেক হোসেন। হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সাদেক জানান, তদের কাছে থাকা ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় হামলাকারীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে বদরুল নিহত ও তিনি আহত হন।
সাদেক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তারা মনরতল বাজার থেকে হাদারপারে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা ছিল। ভোরের দিকে গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা টাকা, মুঠোফোনসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তাদের ওপর দা, চাকু ও ছুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বদরুলের মৃত্যু হয় বলে সাদেকের দাবি।
Manual1 Ad Code
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া দাবিম ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বদরুল। ফেরার পথে তার ভাইয়ের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কয়েকজন হামলা চালায়। এতে বদরুল নিহত হন।
তবে টাকার বিষয়ে কিছু জানেন না জানিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা শুনিনি। এত টাকা নিয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন, কিংবা এর কারণ কী হতে পারে, তা আমার জানা নেই।
Manual5 Ad Code
স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, সাদেকের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে বদরুলের ওপর হামলা করতে দেখেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেননি। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল ও সাদেকের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
ওসি আরও বলেন, বদরুল আলম আগে ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি যুবদলের কোনো কমিটিতে নেই। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন।