প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শিক্ষার্থীদের জন্য ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের জন্য ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার হাতে আসার মানেই নতুন এক পৃথিবীর দরজা খুলে যাওয়া, স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। এতদিন এরকমই মনে করতেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার্থীরা। কারণ অফার লেটার পাওয়ার মানেই স্বপ্নের সিঁড়ির শেষ ধাপ বিমানবন্দরের পথ খুলে যাওয়াÑ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দিকে যাত্রা করা। কিন্তু সেই পথের মাঝখানে এখন একটির পর এসে বসছে বন্ধ দুয়ার। কোনো দরজার তালা খুলতে প্রমাণ দিতে হচ্ছে সত্যিই তিনি পড়তে যেতে চান, কোনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দিতে হচ্ছে অর্থের হিসাবনিকাশ, কোথাও নানা কায়দায় জেনে নেওয়া হচ্ছে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি আবার বিদেশে থেকে যাবেন কি না, কোনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আর জানাই যাচ্ছে না, দরজাটা বন্ধ কেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কানাডার কথা। নতুন স্টাডি পারমিটের প্রত্যাখ্যানের হার ২০২৪ সালের ৫২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই তা পৌঁছেছে ৬২ শতাংশে। দেশের স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জার্মানিতে সাধারণ মাস্টার্স ও ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় ২৭ মাসেরও বেশি। অস্ট্রেলিয়া নতুন করে দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সুযোগ সীমিত করেছে এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য নেওয়ার পথ সংকুচিত করেছে ও বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতিও যাচাই করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যেও আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বেড়েছে নজরদারি।

 

ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ না হলেও যে কয়েকটি দেশ ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়, সেগুলোতে পড়তে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে। ভর্তি থেকে ভিসা, ভিসা থেকে যাত্রা, আর যাত্রা থেকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারÑ প্রতিটি ধাপেই তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

 

কানাডা-জার্মানিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য কানাডা। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালে দেশটির নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকারি হিসাবে ২০২৪ সালের শেষে কানাডায় স্টাডি পারমিটধারী ছিল প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন। ২০২৫ সালের শেষে তা নেমে আসে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ২১৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরেই তা কমেছে ২৬ শতাংশ।

২০২৬ সালে কানাডা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে নতুন আসা শিক্ষার্থী নেওয়া হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার, মেয়াদ বাড়ানো হবে কানাডায় থাকা ২ লাখ ৫৩ হাজার শিক্ষার্থীর। নতুন স্টাডি পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ২০২৪ সালের ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে উঠেছে; ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে তা পৌঁছেছে ৬২ শতাংশে। কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে সংস্কার ও প্রোগ্রাম ইনটেগরিটির ওপর বাড়তি গুরুত্বের কারণেই প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য একই নীতি নয়। ২০২৬ সাল থেকে ডেজিগনেটেড লার্নিং ইন্সটিটিউটের (ডিএলআই) মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের প্রভিন্সিয়িাল অ্যাটেস্টেশন লেটার (পিএএল) কিংবা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার (টিএএল) লাগছে না। অর্থাৎ কানাডা সামগ্রিক প্রবেশ কমালেও উচ্চশিক্ষার নির্দিষ্ট শ্রেণিকে তুলনামূলক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

জার্মানিতে সংকটের ধরন অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেও ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টই বড় বাধা। ঢাকার জার্মান দূতাবাস জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন এত দ্রুত বেড়েছে যে তা দূতাবাসের সক্ষমতার একেবারে বাইরে চলে গেছে। সাধারণ মাস্টার্স ও ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় সেখানে ২৭ মাসেরও বেশি। স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের নথি গ্রহণে VFS যুক্ত হলেও অপেক্ষার তালিকা কমেনি। জার্মান বা ইউরোপীয় সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য আলাদা দ্রুততর প্রক্রিয়া রয়েছে।

অবজার্ভ এডুকেশনের বিভাগীয় প্রধান নাহিদা আক্তার মিতু বলেন, ‘ভালো একাডেমিক ফল, উচ্চ আইইএলটিএস স্কোর ও পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ থাকার পরও এখন অনেক শিক্ষার্থী কানাডা-জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ছেন। তার মতে, শুধু যোগ্যতা নয়, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, অর্থের উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

রাজধানীর মিরপুর ১০-এ অবস্থিত ‘স্টাডি কানেক্ট’-এর সিইও মুহাম্মদ আতাউর রহমান শামীম বলেন, ‘কানাডায় ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়েছে। জার্মানিতে আবেদনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভিসা-অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে ভর্তি নিশ্চিত হলেও ভিসা-অনিশ্চয়তায় আটকে যাচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশযাত্রা।’

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্যেও বদলেছে সমীকরণ

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ ও নিয়মের অপব্যবহার ঠেকাতে ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি বাড়ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২ অক্টোবর থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসাধারীই অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারছেন না। পিএইচডি ও নির্দিষ্ট সরকারি বৃত্তিধারীসহ কিছু ব্যতিক্রম বাদে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীই আর একই আবেদনে পার্টনার বা নির্ভরশীল সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে ‘স্টাডি কানেক্ট’-এর সিইও মুহাম্মদ আতাউর রহমান শামীম বলেন, ‘দুই বছর আগেও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়ার হার আমাদের অভিজ্ঞতায় প্রায় ৯৯ শতাংশের মতো ছিল। তখন বাংলাদেশ অ্যাসেসমেন্ট লেভেল-২-এ ছিল। এখন শিক্ষার্থীর অর্থের উৎস, পরিবারের আয় এবং সেই আয়ের সঙ্গে দেখানো ফান্ডের সামঞ্জস্য অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ভিসা পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা, পরিবারের সদস্য নেওয়ার সুযোগ, পড়াশোনার পর কাজ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারÑ সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণে শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, বিশ্বের অধিকাংশ জনপ্রিয় গন্তব্যেই ভিসানীতিতে পরিবর্তন এসেছে।’

Manual1 Ad Code

যুক্তরাজ্যের দরজা শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ১০ হাজার ৮০৩টি শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা, কোর্সের সঙ্গে পূর্ববর্তী শিক্ষার সামঞ্জস্য এবং প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের ‘আইইএলটিএস গাইড’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তুফায়েল আহমদ বলেন, ‘এখন ভিসা অফিসার শুধু আইইএলটিএস স্কোর বা ব্যাংকে টাকা আছে কি না, তা দেখছেন না। আবেদনকারী সত্যিই পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন কি না, যে কোর্সে যাচ্ছেন সেটি তার আগের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, অর্থের উৎস কতটা স্বচ্ছÑ এসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।’

তার মতে, ‘কানাডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা অনুমোদনের হার গত কয়েক বছরে আমাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাই শিক্ষার্থীদের ‘কোন দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায়’Ñ এটা না ভেবে ‘আমার প্রোফাইলের জন্য কোন দেশ বাস্তবসম্মত’Ñ এই প্রশ্ন করতে হবে।’

ভালো প্রোফাইলেও অনিশ্চয়তা

ভিসানীতির পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিক্ষার্থী ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে। অবজার্ভ এডুকেশনের বিভাগীয় প্রধান নাহিদা আক্তার মিতু বলেন, ‘ভালো প্রোফাইল, আইইএলটিএস-এ ভালো স্কোর এবং পর্যাপ্ত ফান্ড থাকলেই এখন ভিসা নিশ্চিতÑ এমনটা বলা যায় না। আমরা এমন শিক্ষার্থীও দেখছি, যাদের আইইএলটিএস স্কোর ৮-এর কাছাকাছি, অর্থনৈতিক সক্ষমতাও আছে; তারপরও ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আগে যে হারে ভিসা পাওয়া যেত, এখন আমাদের কাজের অভিজ্ঞতায় সেই হার অনেক কমেছে। যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক। ফলে আগামী দুই-তিন বছর শিক্ষার্থীদের আরও হিসাব করে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে হবে। অনেকে দুই-তিন বছর ধরে ভিসার চেষ্টা করছে, তাতে পড়াশোনায় ছেদ পড়ছে। পরে অন্য দেশে আবেদন করতে গেলে সেই গ্যাপও প্রশ্নের কারণ হয়ে উঠছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেনি। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৬ জন। তবে F-1 ও M-1 ভিসা আবেদনকারীদের যাচাইয়ে অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আবেদনকারীর অর্থের উৎস, শিক্ষার উদ্দেশ্য, একাডেমিক পরিকল্পনা ও ভিসা সাক্ষাৎকারের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

Manual3 Ad Code

বিকল্প গন্তব্যে আগ্রহ বাড়ছে

স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় গন্তব্যগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের কারণে মালয়েশিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বিকল্প গন্তব্যে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষার্থী ২০২৪ সালের ৩ হাজার ২৮৫ থেকে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ৭১৭ হয়েছে। ব্যাংকের স্টুডেন্ট ফাইল খোলার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের চাহিদা বাড়ছে। তবে নতুন গন্তব্যও যে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত, তা নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, প্রোফাইল অনুযায়ী বাস্তবসম্মত দেশ নির্বাচন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘তরুণদের একটি অংশ পড়াশোনা, কর্মসংস্থান কিংবা ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তার জন্য বিদেশে যেতে চাইছে। দেশে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা, মেধা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনিশ্চয়তা এবং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার ঘাটতিও তাদের বিদেশমুখী করছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তরুণরা শুধু বিদেশে যাওয়াকেই ভবিষ্যতের একমাত্র পথ মনে না করে।’

বিদেশে উচ্চশিক্ষার চালচিত্র থেকে সুস্পষ্ট যে, সেখানে উচ্চশিক্ষার পথ বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়নি, তবে তা আর আগের মতো সরলও নেই। কানাডায় সংখ্যা কমছে, জার্মানিতে অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে যাচাই বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে নজরদারি গভীর হচ্ছে। এমন চাপের মুখে নতুন গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছে দেশের শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রশ্নটি এখন আর শুধু ‘কোন দেশে পড়তে যাব’ নয়Ñ কোন দেশে ভর্তি হওয়ার পর সময়মতো ভিসা পাওয়া যাবে, অর্থের উৎস বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করা যাবে, পড়াশোনার উদ্দেশ্য গ্রহণযোগ্য হবে এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পথও খোলা থাকবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ না হলেও আগের মতো প্রশস্তও আর নেই।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code