সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান
সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
Manual8 Ad Code
তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চাইছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে সেই নোটিশ আলোচনাতেই আসতে দেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সংসদের গঠন প্রকৃতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন যে, এই সংসদে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। এদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তবে আর কে বুঝবে? তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
Manual3 Ad Code
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হা’ এর পক্ষে রায় দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে ‘হাইজ্যাক’ ও ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী জনগণের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে ফিরে যাবে এবং যেকোনো মূল্যে ইনসাফ কায়েম করবে।
Manual7 Ad Code
দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন যে, যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচনা সভায় জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধ করা হবে এবং ইনশাআল্লাহ এই অশুভ যাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া হবে।