নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রেম মানেনা কোনো বাঁধা। প্রেম মানেনা ধর্ম-বর্ণ কোনো কিছুই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে এমনই এক প্রেমিক যুগলের ভালোবাসার পূর্ণতা পেল। ফেসবুকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। আর সেই ভালোবাসার টানেই প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধাই হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাঁদের সম্পর্কে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিনের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নূর উদ্দিন। তাঁর জীবনসঙ্গী হয়েছেন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা।
Manual1 Ad Code
জানা যায়, নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তবে তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে বসবাস করছেন।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিজার সঙ্গে পরিচয় হয় চীনের তরুণ উদ্যোক্তা ওয়্যাং সুলিনের। প্রথমে সাধারণ কথোপকথনের মাধ্যমে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানান।
Manual4 Ad Code
দুই পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচয় ও মতবিনিময় শেষে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় মো. নূর উদ্দিন। এরপর আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
Manual4 Ad Code
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার রাবেয়া মঞ্জিলে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বাড়িতে চলছে আয়োজন। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে নিমন্ত্রণপত্র। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়েকে ঘিরে এলাকাজুড়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হয়। পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্যও যাচাই করা হয়। সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।