ইরানের দমন-পীড়নে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার: আইএইচআর
ইরানের দমন-পীড়নে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার: আইএইচআর
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর নজিরবিহীন দমন-পীড়নের বেশ কিছু নতুন ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি ভেরিফাই। এসব ভিডিওতে তেহরানের একটি হাসপাতালে লাশের স্তূপ, ভবনের ছাদে স্নাইপারদের অবস্থান এবং বিক্ষোভকারীদের সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস করার দৃশ্য দেখা গেছে।
Manual8 Ad Code
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও নতুন ভিডিওগুলো রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার ভয়াবহতা সামনে এনেছে। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (হ্রানা) জানিয়েছে, ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৬৩৩ জনই বিক্ষোভকারী। তবে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) দাবি করেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি পার্সিয়ান কর্তৃক বিশ্লেষণকৃত একাধিক ভিডিওতে পূর্ব তেহরানের তেহরানপার্স হাসপাতালের মর্গের ভেতরে লাশের স্তূপ দেখা গেছে। ভিডিওর ভেতরের দৃশ্য যাচাই করে একটি ভিডিওতেই অন্তত ৩১টি মৃতদেহ গণনা করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রবেশপথের বাইরে আরও সাতটি বডি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভির ডাকা দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালীন এসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই দুই রাত ছিল বিক্ষোভকারীদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। পশ্চিম তেহরানের একটি মহাসড়কে বিক্ষোভ চলাকালে বৃষ্টির মতো গুলির শব্দ এবং মানুষের আর্তনাদও ভিডিওগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
Manual5 Ad Code
বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করার চেষ্টা করছেন। যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানে একজন ব্যক্তি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করছেন এবং নিচে থাকা জনতা উল্লাস প্রকাশ করছে। দক্ষিণ-পূর্বের শহর কেরমানে সামরিক পোশাকে সশস্ত্র ব্যক্তিদের টানা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।
Manual4 Ad Code
এছাড়া উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদে একটি ভবনের ছাদে দুজন স্নাইপারের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে, যাদের পাশে বড় আকারের রাইফেল রাখা ছিল। বিবিসি এ পর্যন্ত ইরানের ৭১টি শহর ও জনপদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর সংগ্রহ করেছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Manual6 Ad Code
ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, সহিংসতায় ৩ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী নিহতদের বড় অংশই নিরাপত্তা কর্মী বা ‘দাঙ্গাবাজদের’ হাতে আক্রান্ত পথচারী। বর্তমানে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর কড়াকড়ি জারি থাকলেও কেউ কেউ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা ভিপিএন ব্যবহার করে ভিডিওগুলো পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।
দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির অর্থনীতিও সংকটের মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে যে, সামনের দিনগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে এই দমন-পীড়নের আরও ভয়ঙ্কর সব চিত্র ও ভিডিও বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হবে।