অভিষেকটা হয়েছিল মিরপুরেই, তাও এক দশক আগে। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে বেশিদূর যেতে পারেননি লিটন দাস। মাত্র ৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন তিনি। ১১ বছরের ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন কম দেখেননি। কিন্তু ওয়ানডেতে মিরপুরের পিচে কখনোই ভাগ্য বদলাতে পারেননি এই ব্যাটার।
Manual3 Ad Code
মিরপুরে এখন পর্যন্ত ২৬ ইনিংস ব্যাট করেছেন লিটন দাস। মাত্র ১৭ গড়ে করেছেন ৪৩৯ রান। সেঞ্চুরি তো দূরে থাক, ১১ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই ভেন্যুতে একবারও ফিফটির দেখা পাননি তিনি। ব্যাটিং ইউনিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এমন পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
Manual7 Ad Code
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৬টি ডাকের মালিক লিটন দাস, যার চারটিই এসেছে মিরপুরে। স্ট্রাইক রেটের হিসেবেও পিছিয়ে তিনি। ক্যারিয়ারে ৮৫ এর আশেপাশে থাকা ব্যাটিং রেট মিরপুরে ৭০-ও ছুঁতে পারেনি। মিরপুরের পিচ যেমনই হোক, লিটন যেন এই ভেন্যুতে বারবার নিজের ছন্দ হারান।
Manual8 Ad Code
মিরপুরের পিচ নিয়ে সম্প্রতি বিসিবির চার-ছক্কা পডকাস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন লিটন দাস। তিনি বলেন, ‘শের-ই-বাংলায় এত ম্যাচ না খেললে আমার গড়-স্ট্রাইক রেট এত কম হতো না। এখানে বোলার হিসেবে খেলা খুবই সোজা, ব্যাটার হিসেবে খেলা খুবই কঠিন। সোজা কারণ বোলার নিজেও জানে না বলটা কী হবে। তো ব্যাটার কোত্থেকে জানবে?’
Manual4 Ad Code
লিটন আরও বলেন, ‘এটা এমন এক মাঠ, যেখানে বিশ্বের বড় তারকাও এসে সংগ্রাম করে চলে গেছে। ইদানীং উইকেট অনেক ভালো। এভাবে ৫-৬ বছর থাকলেই হবে। তবে একটা ব্যাটারকে খারাপ বানানোর জন্য মিরপুর যথেষ্ট ছিল। যদিও এমন পিচে খেলে দেশ (বিসিবি) খুশি হতো, কারণ বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে।’
ওয়ানডেতে লিটন পিছিয়ে পড়লেও মিরপুরে অন্য ফরম্যাটে তার চিত্র ভিন্ন। টেস্টে তার গড় ৩৯, আছে ২ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি। টি-টোয়েন্টিতে একই ভেন্যুতে ৫টি ফিফটির দেখা পেয়েছেন তিনি। কুড়ি ওভারের ম্যাচে মিরপুরে রান করার তালিকায় আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তবুও ওয়ানডে ফরম্যাটে মিরপুর যেন এখনও লিটনের জন্য এক অমীমাংসিত ধাঁধা।
মিরপুরে লিটনের চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস আছে ছয়টি। সবশেষ ছয় ইনিংসেই আবার তার দেখা পেয়েছেন তিনবার। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড সিরিজে যথাক্রমে ৪১, ৪১ ও ৪৬ রানে আউট হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এবার অধরা মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় লিটন দাস।