প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

রাষ্ট্রপতি আড়াই মাস পর কেন এ কথা বললেন?

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৪, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি আড়াই মাস পর কেন এ কথা বললেন?

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিপরীতধর্মী দুটি বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাত থেকে সোমবার দিনভর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, যখন ফ্যাসিস্টের শক্তিরা বিভিন্ন জায়গায় মাথাচার দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তখন হঠাৎ করে আড়াই মাস পরে কেন এই কথা বললেন রাষ্ট্রপতি, এখন সেই প্রশ্ন আসাটাও স্বাভাবিক।

Manual8 Ad Code

হাসিনার পদত্যাগপত্র তার কাছে নেই-রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য শপথ ভঙ্গের সামিল বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে অটল থাকলে তিনি পদে থাকতে পারেন কিনা তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচিত হতে পারে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

Manual3 Ad Code

গত ১৯ অক্টোবর সাপ্তাহিক রাজনৈতিক ম্যাগাজিন ‘জনতার চোখ’ ও দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী তার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লেখেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে হাসিনার পদত্যাগপত্র নেই বলে তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর ৫ আগস্ট রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি তিন বাহিনীর প্রধানদের সামনে রেখে বলেছিলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি’। রাষ্ট্রপ্রধানের এই দ্বিমুখী বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজালের। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন-উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র পাননি। এটা মিথ্যাচার। এটা উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ উনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এরপর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপদেশমূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে উনার (রাষ্ট্রপতি) কাছ থেকে আপিল বিভাগের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়- এই পরিস্থিতিতে করণীয় কি আছে? এটার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং অন্য সব বিচারপতিরা মিলে ১০৬ এর অধীনে একটা মতামত প্রদান করেন রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের ভিত্তিতে। সেটার প্রথম লাইনটি হচ্ছে, দেশের বর্তমান অদ্ভুত পরিস্থিতিতে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন…। তারপর অন্যান্য কথা।’

Manual8 Ad Code

আসিফ নজরুল বলেন, রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সটিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতির স্বাক্ষর আছে’। এর পরিপ্রেক্ষিতে যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে একটি নোট আমরা মন্ত্রণালয়ের দফতর থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাই। এই অভিমত রাষ্ট্রপতি দেখেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। এরপর উনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছেন, যুক্ত করেন আসিফ নজরুল।

মোহা. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, আপনার যদি মানসিক এবং শারীরিক সক্ষমতা না থাকে বা আপনি যদি গুরুতর অসাদচরণ করেন, তখন রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন কিনা সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আমাদের সংবিধানে আছে।

তিনি আরও বলেন, একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা মানুষ পুরো জাতির সামনে ভাষণ দিয়ে পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়ে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অভিমত নেওয়ার পরও উনি কীভাবে এটা বলতে পারেন এটি আমার বোধগম্য না। এখন উনার স্ববিরোধী কথাবার্তা বলার কোনো সুযোগ নেই। যদি তিনি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে উনি নিজ পদে থাকার যোগ্য আছেন কিনা সেটি আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় ভেবে দেখতে হবে।

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code