ট্রেনে পরিচয়, ধর্ষণ, খুন : চুরি করতে গিয়ে ফাঁস ভিডিও
ট্রেনে পরিচয়, ধর্ষণ, খুন : চুরি করতে গিয়ে ফাঁস ভিডিও
editor
প্রকাশিত মার্চ ১১, ২০২৫, ০৬:২১ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩) নামের এক যুবক। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার মোবাইলে এক তরুণীকে বেঁধে রাখা ও নির্যাতনের ভিডিও পায় পুলিশ।
সোমবার (১০ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।
তিনি জানান, শনিবার (৮ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রাধানগর গ্রামের তাহিরুল ইসলামের ইজিবাইক চুরি করে পালানোর সময় ধরা পড়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ। এসময় তার সহযোগী আরও ২ জন পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর আটোয়ারীর কিসমত স্টেশনে নামিয়ে পাশের এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর যৌনাঙ্গ, স্তনসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ রেললাইনে ফেলে যায়। পরদিন কিসমত এলাকায় রেলাইনে ক্ষতবিক্ষত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। তবে খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁয়ের ভুল্লি এলাকার একটি পরিবার তাদের মেয়ে মনে করে মরদেহ গ্রহণ করে দাফন সম্পন্ন করেন।
Manual2 Ad Code
মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই নারী পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তার রিফাত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বিকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
Manual2 Ad Code
ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, সদর উপজেলার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ৪ জানুয়ারি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার পর ওই কিশোরীর বাবা নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মেয়েকে অপহরণের মামলা করেন। ১৪ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ট্রেনে কাটা পড়া খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর সেই লাশ নিজের মেয়ে ভেবে তিনি গ্রহণ করেছিলেন। এখন রিফাতকে গ্রেপ্তারের পর ছবি ও ভিডিও দেখে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই লাশ তাঁদের মেয়ের নয়।
Manual5 Ad Code
ওসি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ওই লাশ দাফনের প্রায় ১০ দিন পর অন্য একটি স্থানে লাশের হাড়গোর পাওয়া যায়। ওই হাড়গোরের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিখোঁজ কিশোরীর বাবা-মায়ের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রেলপথ থেকে উদ্ধার লাশের আলামতও ডিএনএ টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।