ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সর্বত্র বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মাঠে সরব রাজনৈতিক দলগুলো। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেন পরিণত হয়েছে একটি নির্বাচনী মাঠে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনা।
Manual1 Ad Code
রাজনৈতিক দলগুলোর বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনের প্রার্থীর অনুসারীরা পোস্ট লাইভের মাধ্যমে নির্বাচনী সভা, মিটিং, ভিডিও বা গণসংযোগ সরাসরি সম্প্রচার করছেন। রাজনীতি সচেতন এই জনপদে অনলাইনে মত প্রকাশ, জনমত গঠন ও প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ সক্রিয় রয়েছে এসব প্ল্যাটফর্মগুলোতে। তবে শুধু ইতিবাচক নয়, কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে এইসব মাধ্যমে। গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সংখ্যাও বাড়ছে। ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে বেড়েছে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা, চরিত্র হনন। এসব ফেক আইডির কারনে অস্বস্থিতে আছেন প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও সচেদন নাগরিকরা।
Manual2 Ad Code
বিয়ানীবাজারে ভোটের মাঠে রীতিমত ভার্চুয়াল যুদ্ধে নেমেছেন বিএনপি, জামায়াত ও জমিয়ত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনে কখনো মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অন্তত: দুই শতাধিক ফেক আইডি থেকে একপক্ষ-আরেকপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ফেক আইডি থেকে অসত্য তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় গত একমাসে থানায় অন্তত: অর্ধশত সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। নির্বাচন আরোও ঘনিয়ে আসলে এরকম সাধারণ ডায়রী ও উত্তেজনা ক্রমশ: বাড়বে।
Manual8 Ad Code
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলা সুজন সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ রয়েছে তরুণ ভোটার। তারা নিজেদের মতামত প্রকাশে অনেকটা নির্ভরশীল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের দোরগোড়ায় তাদের কার্যক্রম, নির্বাচনী ইশতেহার পোস্ট, লাইভ, ভিডিও মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন। এ মাধ্যম শুধু ইতিবাচক নয়, এর নীতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। অনেক দল বা ব্যক্তি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভুল, মিথ্যা তথ্য পরিকল্পিতভাবে ছাড়ায়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো: জয়নুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এটি ব্যবহারের কোনো নীতিমালা নেই। যে যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করছে। যার যা মনে চাচ্ছে সে সেই নামে আইডি খুলছে, ভিডিও-ছবি ছাড়ছে। শিষ্টাচার বহির্ভূত যে কর্মকান্ডগুলো চলছে সেটির পিছনে রাজনৈতিক বা কোনো ব্যক্তি প্রসঙ্গগুলো চলে আসছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে আইডি রয়েছে সেটি দিয়ে রাজনৈতিক দল, কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা এই টর্চারগুলোকে আমরা একটা উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষ্য করছি।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উজ্জামান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের সামনে নতুন যে চ্যালেঞ্জ আসবে ফেক নিউজ এবং এআই রিলেটেড যে কোনো অডিও অথবা ভিডিওকে কেন্দ্র করে। কোনো নিউজ যখন ছড়িয়ে পড়বে সেটি যাতে যাচাইবাছাই ছাড়া তারা না ছড়ায় বা শেয়ার বা লাইক না করে।