প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বিয়ানীবাজারে আশ্রয়ণের বহুঘর শূ্ণ্য, কারণ যা জানা যাচ্ছে

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে আশ্রয়ণের বহুঘর শূ্ণ্য, কারণ যা জানা যাচ্ছে

Manual7 Ad Code

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিয়ানীবাজারে প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় এসব ঘর। উপজেলার তিনটি এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। তবে শুরু থেকে মুল্লাপুর ইউপির কাছাটুল এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপকারভোগীদের বসবাসে অনীহা ছিল।

তাড়াহুুড়ো করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা এবং পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ মৌলিক সুবিধার ঘাটতি থাকায় অনেক আশ্রয়নের অনেক সুবিধাভোগী ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও আশ্রয়ণের ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। ফলে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের যে লক্ষ্য নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার দায়ে খাসা পন্ডিতপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দাকে বের করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ঘর বরাদ্দের এক বছর না যেতেই অনেক আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা কমতে শুরু করে। কোথাও কয়েকটি পরিবার থাকলেও বেশিরভাগ ঘরই পড়ে রয়েছে ফাঁকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়ণের ঘর পেলেও সেখানে বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন। কর্মসংস্থানের সুযোগ কম, বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো নয়। এর সঙ্গে রয়েছে ঘরের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার সমস্যা। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এসব প্রকল্পে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা না থাকায় সুবিধাভোগীদের একটি অংশ সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারছেন না।

Manual3 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

বিয়ানীবাজারের আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে ঘর আছে, নেই বসবাসের পরিবেশ। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই দেওয়া নয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রকল্পে ঘর নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ঘর থাকলেও সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না সুবিধাভোগীরা। বিশেষ করে জীবিকার প্রয়োজনে অনেককে প্রকল্প এলাকা ছেড়ে দূরে যেতে হচ্ছে। এতে খালি পড়ে থাকছে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর।

 

স্থানীয়দের মতে, শুধু ঘর নির্মাণ করলেই একটি পরিবারকে পুনর্বাসন করা যায় না। পরিবারের সদস্যদের আয়-রোজগারের সুযোগ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নিরাপদ পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন না। আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এলাকার মানুষের জীবিকা, পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা নিয়ে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই করা জরুরি ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরই এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত এসব ঘর যাতে পরিত্যক্ত না হয় এবং প্রকৃত ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের স্থায়ী আবাসনে পরিণত হয়, সেজন্য নিয়মিত পরিদর্শন, ঘরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিয়ানীবাজারের খাসা পন্ডিতপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদেরকে ঘর দেওয়ার পর থেকে একদিনও কেউ খোঁজখবর রাখেনি। এক বছরের মধ্যে ঘরের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। ’

পারভিন বেগম নামের আশ্রয়নের এক বাসিন্দা বলেন, ‘তিন বছর ধরে কষ্ট করে এখানে থাকি কিন্তু কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাই না। আগে ৪০টি পরিবার ছিল কিন্তু এখন ১০-১২টি পরিবার আছে। এখানে বসবাস করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। ঘরের অবস্থা খুব খরাপ। বাইরে থেকে সুন্দর লাগলেও ভেতরে খারাপ অবস্থা। যে কারণে বাধ্য হয়ে এখান থেকে সবাই চলে যাচ্ছে। আমরা তারেক রহমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, আমাদের যাতে খোঁজখবর রাখে এবং সহযোগিতা করে।’

Manual8 Ad Code

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সম্পাদক খালেদ আহমদ বলেন, ‘শুধু ঘর নির্মাণ করে দিলেই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত হয় না। আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, যোগাযোগব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর যাতে পরিত্যক্ত না হয়, সেজন্য প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম ও ঘর বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু ঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। যেসব ঘর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code